নৃবিজ্ঞান ও সংস্কৃতি

প্রাথমিক নৃবিজ্ঞান সেকশনটির উদ্দেশ্য হল নৃবিজ্ঞান বিষয়ক প্রাথমিক ধারনাগুলোকে বাংলা ভাষায় পাঠকদের কাছে পৌছে দেওয়া। এই সেকশনের প্রথম পর্বে নৃবিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ে এই ডিসিপ্লিনে আলোচিত কয়েকটি ধারণার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি দেওয়া হল। এই পর্বে অবদান রেখেছেন:  মাহমুদুর রহমান খান, উম্মে সুমাইয়া (পরী), আসিফুল আলম অয়ন, লুবাবা তাহসিন রহমান, সাদিয়া শান্তা ও আফরিনা অর্পা।    

নৃবিজ্ঞান:

নতুন কোন লোক এলাকায় এলে বা নতুন কোন এলাকায় আমরা গেলে উভয় ক্ষেত্রেই আমাদের কৌতূহল কাজ করে। অর্থাৎ অপরকে জানার অসীম আগ্রহ আমাদের মধ্যে সহজাতভাবেই রয়েছে। এই অপরকে জানার চেষ্টা থেকেই জ্ঞানকাণ্ড হিসেবে নৃবিজ্ঞানের জন্ম। অবশ্য উপনিবেশবাদের সহায়ক হিসেবে নৃবিজ্ঞানের জন্ম হওয়ায় শুরুর দিকে ঔপনিবেশিকদের সাহায্যকারী হিসেবে নৃবিজ্ঞান কাজ করেছে। পরবর্তীতে এই নিয়ে নৃবিজ্ঞানকে কাঠগড়ায়ও দাঁড় করানো হয়েছে। 

ইংরেজি ‘Anthropology’ শব্দটির বাংলা প্রতিশব্দ হলো নৃবিজ্ঞান। ‘Anthropology’ শব্দটি গ্রীক শব্দ Anthropos (মানুষ) এবং Logos (বিশেষ জ্ঞান) থেকে এসেছে। Anthropology বা নৃবিজ্ঞান শব্দটির অর্থ দাঁড়ায় মানুষ সম্পৃক্ত বিশেষ জ্ঞান। নৃবিজ্ঞান বর্তমান ও অতীতের মানুষের, মানবসমাজের মধ্যকার সমরূপতা ও ভিন্নতা নিয়ে কাজ করে।

 ‘এনসাইক্লোপিডিয়া অব এন্থ্রোপোলজির’ সম্পাদকদ্বয় ডেভিড ই হান্টার ও ফিলিপ হুইটেনের মতে, এই জ্ঞানশাস্ত্রটিকে মনুষ্যপ্রকৃতির একটি নিয়মতান্ত্রিক অধ্যয়ন হিসেবে পাঠ করা যেতে পারে।

কালচারাল এন্থ্রোপোলজির লেখক সেরিনা নন্দা নৃবিজ্ঞানকে মানব সমাজ ও সংস্কৃতির তুলনামূলক অধ্যয়ন হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেন। 

এছাড়াও, মানুষের জীবনধারা অর্থাৎ সংস্কৃতি এবং এর সাথে মানুষ কিভাবে খাপ খাওয়ায় তার বিশ্লেষণ, পর্যবেক্ষণ এবং ব্যাখ্যা প্রদান করে নৃবিজ্ঞান। অপরাপর শাস্ত্রসমূহ থেকে নৃবিজ্ঞানের পার্থক্য হলো নৃবিজ্ঞানের ‘Holistic approach’ (সমগ্রতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি)। কেননা নৃবিজ্ঞানে মানুষকে সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা হয়।সকল স্থান ও সকল কালের মানুষ নৃবিজ্ঞানের গবেষণার অংশ।

উত্তর আমেরিকান নৃবৈজ্ঞানিক ধারা মতে, প্রজাতি হিসেবে মানুষকে সামগ্রিকভাবে অধ্যয়ন করতে হলে চারটি দিক দেখা প্রয়োজন।তাই, নৃবিজ্ঞানকে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

১)জৈবিক নৃবিজ্ঞান (Biological Anthropology): 

জৈবিক নৃবিজ্ঞান সময়ের সাথে ঘটা মানুষের বৈচিত্র্য অধ্যয়ন করে থাকে। জৈবিক নৃবিজ্ঞান মানবজাতিকে জৈবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচার করে থাকে। এক্ষেত্রে জেনেটিক্স, বিবর্তন, প্রাচীন মানুষ, প্রাইমেট এবং তাদের পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর প্রক্রিয়াতে জোর দিয়ে থাকে। নৃবিজ্ঞানের প্রথমদিকে জৈবিক নৃবিজ্ঞানের সাহায্যে একধরণের বর্ণবাদী ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিলো। পরবর্তীতে জৈবিক নৃবিজ্ঞানে জ্ঞানচর্চার ধরণ পরিবর্তনের সাথে এই ন্যারেটিভ ভেঙে পড়ে। জৈবিক নৃবিজ্ঞানীদের অনেকে মানুষের কাছাকাছি প্রজাতি, যেমন বানর, শিম্পাঞ্জি  ( Cousin species) নিয়ে কাজ করেন যা প্রাইমেটোলজি হিসেবে পরিচিত। প্যালিওএন্থ্রোপলোজিস্টরা (Paleoanthropologist)  প্রাপ্ত ফসিল, হাড় ও দাতের বিশ্লেষণের মাধ্যমে আমাদের প্রাচীন বংশধরদের সম্পর্কে ধারণা দেয়। এছাড়া জৈবিক নৃবিজ্ঞানের একটি গুরত্বপূর্ণ কাজের ক্ষেত্রে হচ্ছে কিভাবে সংস্কৃতি ও মানুষের জৈবিকতা পরষ্পরকে প্রভাবিত করে,তার খোঁজ করা। 

২)সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান (Cultural Anthropology):

সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান বিভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে বৈচিত্র্যতা এবং সাদৃশ্যতা  অনুসন্ধান, বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা করে থাকে। সংস্কৃতি হলো একটি মানবগোষ্ঠীর ধর্ম, সামজিক রীতিনীতি, খাবার, আচার ও শিল্পের বৈশিষ্ট্য। ফলে, সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানে মানুষ কিভাবে সংস্কৃতির অংশ হয়ে জীবন-যাপন করে, সেটা অন্যতম আলোচ্য বিষয়। সংস্কৃতির পরিবর্তনের ব্যাপারগুলোও এইক্ষেত্রে আলোচিত হয়৷  সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান সামাজিক কাঠামোর উন্মোচন,প্রতীকের ব্যাখ্যা প্রদানের কাজও করে থাকে। সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য অধ্যয়ন ও ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানীরা মাঠকর্ম অথবা সংস্কৃতির তুলনামূলক অধ্যয়নের মাধ্যমে করে থাকেন। মাঠকর্মে নৃবিজ্ঞানীরা যে সমাজ, সংস্কৃতি ও জনগোষ্ঠী সম্পর্কিত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা করেন তারা সেই জনগোষ্ঠীর সাথে বসবাস করে এসকল তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেন। প্রথাগতভাবে নৃবিজ্ঞানীরা ছোট কোন জনগোষ্ঠীতে থেকে ঐ জনগোষ্ঠীর আচার, রীতিনীতি, প্রথা, বিশ্বাস, সামাজিক রীতি, ধর্ম, অর্থনীতি ও রাজনীতি পর্যবেক্ষণ এবং অধ্যয়ন করেন। নৃবৈজ্ঞানিক চিন্তাসূত্র নৃতাত্ত্বিক মাঠকর্ম থেকে উদ্ভূত হয় বলে তা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিজ্ঞান থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। সংস্কৃতির আড়াআড়ি পাঠের ক্ষেত্রে নৃবিজ্ঞানীরা মাঠকর্ম থেকে প্রাপ্ত উপাত্ত ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ করে থাকে। সাংস্কৃতিক তুলনা, বৈচিত্র্য নির্ণয় ও সাধারণীকরণ করতে এথনোলজি ( Ethnology ) অনুসরণ করা হয়। অনুমান নিরীক্ষা, সমাজ ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত তত্ত্ব নির্মাণে এথনোলজি সাহায্য করে। বহু মহাদেশে নৃবিজ্ঞান বলতে কেবলমাত্র ‘সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান’ কে বোঝায় কিন্তু উত্তর আমেরিকায় নৃবিজ্ঞানের যেকোনো উপবিভাগের অনুশীলন ঘটে ‘চার ক্ষেত্রের’ সাপেক্ষ হিসেবে।

৩)নৃবৈজ্ঞানিক ভাষাতত্ত্ব (Anthropological Linguistics):

ভাষা মানুষের অন্যতম সেরা আবিষ্কার। পশুপাখিদের ভাষা ব্যবহার করে; কিন্তু তা সীমিত ও জৈবিকভাবে পূর্বনির্ধারিত। আর মানুষের ব্যবহৃত ভাষা কেবলমাত্র জৈবিকভাবে নির্ধারিত থাকে না। বরং কোন পরিস্থিতিতে কোন শব্দ ব্যবহার করবে এবং কোন বস্তুকে কি নামে ডাকবে তা নির্ভর করে তার সাংস্কৃতিক পরিবেশের উপর। নৃবৈজ্ঞানিক ভাষাতত্ত্ব হলো ভাষার অধ্যয়ন অর্থ্যাৎ ভাষার বৈচিত্র্যের অধ্যয়ন।তার পাশাপাশি ভাষার সাথে মানুষের সংস্কৃতি, জীবন-যাপন ও চিন্তার আদলগুলোর সম্পর্ক নিয়েও সে কাজ করে। 

নৃবিজ্ঞানের চিন্তাসূত্র ধরে ভাষাতত্ত্ব চর্চার ধারাকে ভাষাতাত্ত্বিক নৃবিজ্ঞান বা নৃবৈজ্ঞানিক ভাষাতত্ত্ব বলা হয়। বোয়াসের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত মার্কিন ধারার নৃবিজ্ঞানের একটি প্রধান শাখা হিসেবে ভাষাতাত্ত্বিক নৃবিজ্ঞানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিলো আদিবাসী আমেরিকানদের ভাষা রপ্ত করা। পূর্বে সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানীরা বিশ্বের এমন সব দেশে মাঠকর্ম বা গবেষণাকার্য করতেন যেখানের ভাষাসমূহের কোনো লিখিত রূপ ছিলো না এবং সেসকল ভাষা  বেশ দুর্বোধ্য। সংস্কৃতি ভাষার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়; তাই, গবেষণাকার্য সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনের তাগিদে, তাদের সেসকল অঞ্চলের মানুষদের ভাষা রপ্ত করতে হতো। এসব অভিজ্ঞতা অনেক ক্ষেত্রে ভাষাতাত্ত্বিক নৃবিজ্ঞান চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়েছে। 

৪)নৃবৈজ্ঞানিক প্রত্নতত্ত্ব (Antrhopological Archaeology):

উত্তর-আমেরিকান নৃবিজ্ঞানে প্রত্নতত্ত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ উপ-বিভাগ। প্রত্নতত্ত্ব অতীতকালের মানুষদের রেখে যাওয়া বিভিন্ন বস্তু-সামগ্রীর ধ্বংসাবশেষ  খননকার্যের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করে সেগুলোর ভিত্তিতে তাদের সংস্কৃতি, সমাজ ব্যবস্থা, অর্থনীতি, খাদ্যভ্যাস, রাজনৈতিক পদ্ভতি প্রভৃতির রূপরেখা পুননির্মাণ করে। প্রত্নতাত্ত্বিক খননের মাধ্যমে উদ্ধারকৃত জীবাশ্মের এ্যানাটমিকাল বৈশিষ্ট্যর তুলনা জৈবিক নৃবিজ্ঞানের অংশ হলেও উদ্ধারকৃত এসকল সামগ্রীকে প্রাপ্তিস্থানের সাথে সম্পর্কযুক্ত করা, প্রাক-ঐতিহাসিক সমাজ কাঠামোর সূত্র খোঁজা নৃবৈজ্ঞানিক প্রত্নতত্বের কাজ। উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ, আবর্জনা থেকে জনগোষ্ঠীর কাজকর্মের সন্ধান পাওয়া যায়। আবাদকৃত এবং বন থেকে সংগ্রহ করা শস্যের পার্থক্য থেকে প্রত্নতাত্ত্বিকরা প্রাপ্ত উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য নির্ণয় করেন। প্রাণীর হাড় থেকে প্রাণীটির লিঙ্গ, বয়স এবং প্রাণীটি গৃহপালিত ছিলো না বন্য ছিলো তা নির্ণয় করা হয়। এসব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগোষ্ঠীটির অর্থনৈতিক অবস্থা, যেমন  তারাশিকারি ও সংগ্রহকারী ছিলো নাকি  কৃষিকাজ ও পশুচারণ করতো; তাদের শিকার বা কৃষিকাজের ধরণ প্রভৃতি নির্ণয় করা হয়। প্রত্নতাত্ত্বিকরা সবচেয়ে বেশী ব্যয় করেছেন মৃৎপাত্র অধ্যয়ন, পরীক্ষণ ও অনুসন্ধানের কাজে। কারণ, অন্যান্য আর্টিফেক্টস ( Artifacts ) বা ব্যবহার্য দ্রব্যাদির তুলনায় মৃৎপাত্র বেশী দীর্ঘস্থায়ী হয়ে থাকে। প্রাপ্ত মৃৎপাত্রের টুকরা থেকে জনসংখ্যার ঘনত্ব ও সংখ্যা অনুমান করা যায়।  পাশাপাশি মৃৎপাত্র তৈরীতে ব্যবহৃত কাঁচামালের অনুসন্ধানে প্রাপ্ত কাঁচামাল ঐ এলাকার না হলে তা ব্যবসা-বাণিজ্যের সাক্ষ্য দেয়। এভাবে খনন থেকে প্রাপ্ত জীবাশ্ম, বিভিন্ন হাতিয়ার, বর্জ্য, উদ্ভিদ, শস্য, ব্যবহার্য যন্ত্রপাতি প্রভৃতি থেকে জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক কাঠামো, সামজিক ও রাজনৈতিক কাঠামো পুননির্মাণ করতে নৃবৈজ্ঞানিক প্রত্নতত্ত্ব কাজ করে।

সংস্কৃতি (Culture):

সংস্কৃতি হলো সমাজে বসবাসকারী মানুষের সম্পুর্ন জীবন প্রণালীর পরিপূর্ণ চিত্র। মানুষ সামাজিক এবং উত্তরাধিকার সুত্রে যেসব কলাকৌশল ও ধ্যানধারণা, ন্যায়বোধ, আচার-আচরণ, অভ্যাস, জ্ঞান লাভ করে তাকে নৃবিজ্ঞানে সৃংস্কৃতি বলে। তবে সামাজিক নৃবিজ্ঞানে সংস্কৃতি আরো ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়। আমরা এই আধুনিক যুগে খুব সহজভাবেই Unclutured শব্দটি ব্যাবহার করি। নৃবিজ্ঞান মনে করে মানবজীবনের সবকিছু নিয়েই সংস্কৃতি গড়ে উঠে। Uncultured বলে কোন কথা নেই। সংস্কৃতি ছাড়া কোন জনগোষ্ঠী দেখা যায় না।  

আমরা জানি সংস্কৃতি শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ culture। এটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ ‘colere’থেকে। যার অর্থ ‘চাষ’। অবস্থাভেদে এর বিভিন্ন ধরনের অর্থ দেখা যায়। যেমন, ইংরেজিতে কখনো culture শব্দের অর্থ ধরা হয়, “The training and refinement of mind, taste and manners.” অর্থাৎ পরিশীলিত মন, মার্জিত রুচি ও ব্যবহার। Culture শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন ফ্রান্সিস বেকন ষোল শতকের শেষার্ধে।আরও একটি মজার জায়গা আছে, Culture v/s culture, যেখানে c ছোট অক্ষরে এবং C বড় অক্ষরে লিখা হয়।Culture- কে মানুষের টিকে থাকার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হয়, এটি এক ধরনের মানব স্বভাব যা সব মানুষেই বিদ্যামান। অন্যদিকে culture বলতে বোঝায় যেটা একজন মানুষ নিদিষ্ট সংস্কৃতি হিসেবে ধারন করে নিজের ভিতরে, যা অনান্য সংস্কৃতি থেকে আলাদা।

সংস্কৃতির কিছু সংজ্ঞাঃ

নৃবিজ্ঞানী ফ্রাঞ্জ বোয়াস বলেন, সমাজের প্রচলিত আচার -অনুষ্ঠান এবং এই বৈশিষ্ট্যগুলোর প্রতি ব্যক্তিবিশেষের যে প্রক্রিয়া এই দুইয়ের সংমিশ্রণে যা সৃষ্টি হয় তাই সংস্কৃতি। ম্যালিনোস্কির মতে সংস্কৃতি হচ্ছে মানুষের আপন কাজের সৃষ্টি, যার মাধ্যমে সে তার উদেশ্য সাধন করে।

লোয়ির মতে সংস্কৃতি একটি বংশগত উপাদান।এটি উত্তরাধিকারসুত্রে পাওয়া যায়।একটি স্বতন্ত্র লোক তার সমাজ থেকে যে বিশ্বাস, রীতি, কলাকৌশল, খাদ্যভাস ও দক্ষতা লাভ করে তার সমষ্টিকে আমরা সংস্কৃতি বলে জানি। এগুলো তার নিজের সৃষ্টি না, বরং শিক্ষার মাধ্যমে অতীত থেকে উত্তরাধিকার সুত্রে পাওয়া বস্তুর মতো তার কাছে এসেছে।

সাংস্কৃতিক অপেক্ষবাদ/আপেক্ষিকতাবাদ (Cultural Relativism):

 বৈচিত্র্যময় পৃথিবীর একেক অঞ্চলের সংস্কৃতি একেকরকম। প্রতিটা সংস্কৃতিরই আছে আলাদা আলাদা নিয়মকানুন, রীতিনীতি, প্রথা বা বৈশিষ্ট্য। অর্থাৎ প্রত্যেকটা সংস্কৃতিরই স্বতন্ত্রতা আছে। আর এই আলাদা আলাদা সংস্কৃতিগুলোকে বোঝার জন্য নৃবিজ্ঞানে যে ধারণাটিকে ব্যবহার করা হয় সেটি হলো “সাংস্কৃতিক অপেক্ষবাদ” । 

সাংস্কৃতিক অপেক্ষবাদ হলো এমন একটি তত্ত্ব যা মার্কিনী নৃবিজ্ঞানী ফ্রাঞ্জ বোয়াসের শিক্ষার্থী ও অনুসারীদের নামের সাথে যুক্ত; যার অপর নাম হচ্ছে সাংস্কৃতিক নির্ধারণবাদ।

এখন আসা যাক এই সাংস্কৃতিক অপেক্ষবাদ বলতে কী বোঝায়। প্রথমেই বলা হয়েছে প্রত্যেকটা সংস্কৃতি আলাদা আলাদা। যেমন কেউ যদি একটা নির্দিষ্ট সংস্কৃতিকে বুঝতে চায়, সেক্ষেত্রে সে ওই সংস্কৃতিকে আগে থেকেই বিচার করা শুরু করে তাহলে তার পক্ষে আসলে সেই সংস্কৃতিকে ঠিকভাবে বুঝা সম্ভবই না। কেন সম্ভব না? কারণ ঐ নির্দিষ্ট সংস্কৃতিটার কিছু নির্দিষ্ট নিয়মকানুন রয়েছে এবং আছে কিছু নিজস্ব মানদন্ড। সেই সংস্কৃতির অনেকগুলো অর্থব্যবস্থা তার নিজস্ব মানদন্ড অনুযায়ীই গড়ে উঠে। তাই তাদেরকে বিচার করতে হবে ঐ সংস্কৃতিরই নিজস্ব মানদন্ড অনুযায়ী।

এবার আসা যাক বোঝাপড়ার কথায়। একটি নির্দিষ্ট সংস্কৃতিকে ঐ সংস্কৃতির মানদন্ড দ্বারাই বুঝতে চেষ্টা করার তাৎপর্য কী? এর একটি যুক্তি হতে পারে পৃথিবীতে কোনো সর্বজনীন বা আদর্শ মানদন্ড নেই, তার পাশপাশি সংস্কৃতির একটা স্থানিক ব্যাপার আছে। এক সংস্কৃতিতে যা ভালো অন্য সংস্কৃতিতে তা খারাপ, এক সংস্কৃতিতে যা নৈতিক অন্য সংস্কৃতিতে তা অনৈতিক বলে গণ্য হতে পারে। যেমন: আমেরিকান সংস্কৃতিতে বহুবিবাহ খারাপ বলে গণ্য করা হয়। শুধু আমেরিকান সংস্কৃতিতেই নয়, অধিকাংশ সংস্কৃতিতেই বহুবিবাহ গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু এটা অনেক সংস্কৃতিতে স্বাভাবিক এবং কিছুক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্যও বটে। তাহলে ঠিক কোন মানদন্ড ভিত্তিতে আমরা বিচার করবো যে কোনো একটা প্রথা বা রীতি সর্বজনীনভাবে সব সংস্কৃতির জন্যই ভালো/স্বাভাবিক/নৈতিক? তবে কেবলমাত্র ভালো-খারাপের হিসাব দিয়ে নয়। বোয়াসদের আপেক্ষিতাবাদের অন্যতম যুক্তি হল, সার্বজনীন কোন মানদন্ডের ভিত্তিতে কোন সংস্কৃতিকে প্রমাণযোগ্যভাবে বিচার করা সম্ভব নয়। মূলত এই পদ্ধতিগত জায়গা থেকেই বোয়াস সাংস্কৃতিক অপেক্ষপবাদ প্রস্তাব করেন।   

এই পদ্ধতি অনুসারে গবেষণা করতে গেলে আমরা আরেকটি টার্মের সাথে পরিচিত হই, সেটা হলো “সাংস্কৃতিক অভিঘাত” । তো এইবার এই বিষয়টি নিয়ে আলাপ করা যাক।

কথায় আছে, “এক দেশের বুলি আরেক দেশের গালি” । এক অঞ্চলের ভাষা, ধর্ম, খাদ্যাভ্যাস, পোশাক পরিচ্ছদ, জীবনধারণ প্রণালী প্রভৃতি আরেক অঞ্চলের থেকে আলাদা হওয়ায়, আমরা যখন নিজস্ব অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে যাই- তখন ঐ অঞ্চলের মানুষের জীবনধারণ পদ্ধতি দেখে অনেক সময় অবাক হই, ঘাবড়ে যাই আবার অনেক সময় আঘাতও পাই অর্থাৎ একটা ধাক্কা খাই। কারণ সেখানকার ভাষা, ধর্ম, খাদ্যাভ্যাস বা পোশাক পরিচ্ছদ আমাদের থেকে আলাদা। এটাকেই বলে সাংস্কৃতিক অভিঘাত।

উপরের ছবিটাতে লক্ষ্য করুন। ইনি হলেন আফ্রিকা মহাদেশের বুশম্যান আদিবাসী জনগোষ্ঠীর একজন। তিনি তাঁদের ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র বাজাচ্ছেন; যেটার সাথে আমরা পরিচিত নই। এটার মতোই তাঁদের ধর্ম, ভাষা, খাদ্যাভ্যাস, পোশাক প্রভৃতির সাথেও আমরা পরিচিত নই। তাই খুব স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে অধ্যয়ন করতে গেলে আমরা অবাক হবো। অথবা তাঁরা আমাদেরকে বা অন্য কোনো সংস্কৃতিকে জানতে গেলে অবাক হবে বা ধাক্কা খাবে। আর এটাকেই সাংস্কৃতিক অভিঘাত বলা হয়।

 স্বজাতিকেন্দ্রিকতা (Ethnocentrism):

Ethnocentrism হলো নিজের সংস্কৃতির দৃষ্টিভঙ্গিতে সমস্ত বিশ্ব দেখবার প্রবণতা, কিংবা নিজের সংস্কৃতি ছাড়া অন্যের সংস্কৃতিকে বুঝতে পারার অসামর্থ্যতা।

নিজের সংস্কৃতিকে শ্রেয় হিসেবে দেখার এবং নিজের মানদণ্ড এবং মূল্যবোধ অনুযায়ী বহিরাগতদের সংস্কৃতিকে বিচার করার প্রবণতাই হচ্ছে Ethnocentrism। আমরা স্বজাতিকেন্দ্রিকতা লক্ষ্য করি যখন মানুষ নিজেদের সাংস্কৃতিক বিশ্বাসকে অন্য কোন গোষ্ঠীর চেয়ে আরো সত্য, সঠিক এবং নৈতিক হিসেবে বিবেচনা করে।

ভিন্ন সংস্কৃতির সংস্পর্শে না আসা ব্যক্তিরা স্বজাতিকেন্দ্রিক হয়ে থাকতে পারেন, যদি তাঁরা মনে করে থাকেন তাঁদের জীবন যাপনের ধারাই সবচেয়ে সঠিক। অনেক মানুষই ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের জীবনধারার সাথে নিজস্ব সংস্কৃতির পার্থক্য দেখে প্রচন্ড ধাক্কা খেতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে কোন গোষ্ঠীর মানুষজন অন্য সংস্কৃতির মানুষজনের জীবনযাপনের ধরনকে ভুল বিবেচনা করে তা জোরপূর্বক পরিবর্তনের চেষ্টা করে থাকেন। এর সবচেয়ে বিধ্বংসী পরিণতি হয় গণহত্যা বা যুদ্ধ। 

স্বজাতিকেন্দ্রিকতা থেকে অনেক সময় বর্ণবাদী এবং বৈষম্যমূলক আচরণকেও ন্যায্যতা দেওয়া হয়। 

উনিশ শতকের শেষ দিকে হাজার হাজার ন্যাটিভ আমেরিকান শিশুদের জোরপূর্বক তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে বোর্ডিং স্কুলগুলোতে পাঠানো শুরু হয় ‘সাদা’দের সংস্কৃতি শেখানোর উদ্দেশ্যে, যেখানে তাঁদের নিজেদের ভাষা এবং সংস্কৃতি চর্চা করা নিষেধ ছিল। এমনকি নিজেদের আসল নাম পর্যন্ত তাঁরা ব্যবহার করতে পারতো না। পরবর্তীতে বোর্ডিং স্কুলের বদলে ন্যাটিভ আমেরিকান শিশুদের সাদা পরিবারগুলোতে দত্তক দেওয়া হয়। ন্যাটিভ আমেরিকানদের সংস্কৃতিকে দেখানো হয় বর্বর এবং জংলী হিসেবে এবং তাঁদের “মানুষ” করার উদ্দেশ্যে আমেরিকান সরকার জোরপূর্বক মুছে ফেলে একটি প্রজন্মের সংস্কৃতি, শেকড় ও ইতিহাস।

এনকালচারেশন (Enculturation)

এনকালচারেশন শব্দটি নৃবিজ্ঞানের একটি টার্ম যা দ্বারা ব্যক্তির নিজস্ব সংস্কৃতিতে অধিভুক্ত হওয়া বুঝায়। কোন ব্যক্তি একটি সংস্কৃতিতে বসবাসরত অবস্থায় যে প্রক্রিয়ায় অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সেই সংস্কৃতির আচার-অনুষ্ঠান, রীতিনীতি ইত্যাদি শিখে থাকে তাকেই এনকালচারেশন বলে। এনকালচারেশনের মাধ্যমে ব্যক্তি তার সংস্কৃতিতে গ্রহণযোগ্য আচরণ ও বর্জিত আচরণ সম্পর্কে শিক্ষা লাভ করে। অর্থাৎ এনকালচারেশন কোন ব্যক্তির আচার আচরণকে তার নিজস্ব সংস্কৃতি অনুযায়ী উন্নীত করে।

এনকালচারেশনের একটি সাধারণ উদাহরণ হচ্ছে- কোন সংস্কৃতিতে বেড়ে উঠার সাথে সাথে অবচেতন মনেই সেই সংস্কৃতির ‘আঞ্চলিক ভাষা’ অর্জন করা। এছাড়াও কোন নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কি রকম প্রতিক্রিয়া করতে হবে, অথবা দোকানে গিয়ে কেনাকাটা করার সময় কিভাবে দর কষাকষি করতে হবে এসবও এনকালচারেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যক্তি সমাজের অন্যান্য সদস্যদের পর্যবেক্ষণ করে শিখে থাকে।

এনকালচারেশন একটি সামাজিকীকরণ (socialization) প্রক্রিয়া। সামাজিকীকরণের মাধ্যমে ব্যক্তি সমাজের রীতিনীতি, আদর্শ, মূল্যবোধ শিখে থাকে। আর এনকালচারেশনের মাধ্যমে তার সংস্কৃতির আচার-আচরণ, পোশাকের ধরন, খাদ্যাভ্যাস ইত্যাদি রপ্ত করে সামাজিকীকরণের দিকে এগিয়ে যায়। যেহেতু সমাজ হচ্ছে অনেক মানুষের সম্মতিতে গড়ে উঠা একটা কাঠামো, এনকালচারেশন সেই কাঠামোর রীতি-নীতির শিক্ষা প্রদান করে ব্যক্তিকে সমাজের ফাংশনাল মেম্বার বা, কার্যিক সদস্য হিসেবে গড়ে তুলে।

আমেরিকান এন্থ্রোপোলজিস্ট মেলভাইল হারস্কোভিটজ (Melville Herskovitz) ‘এনকালচারেশন’ শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন তার ‘Man and his works’ বইয়ে। নৃবিজ্ঞান অধ্যয়নে এই প্রক্রিয়াটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এর মাধ্যমে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সংস্কৃতির আচার-অনুষ্ঠান, রীতিনীতির ধারাবাহিকতা রক্ষা হচ্ছে। ঠিক যে প্রক্রিয়ায় একজন ব্যক্তি তার সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হয়, একই প্রক্রিয়ায় তার পূর্বপুরুষ পরিচিত হয়েছিল এবং পরের প্রজন্ম ও পরিচিত হবে। আর তাই নৃবিজ্ঞানের অন্যতম শাখা ‘সাংস্কৃতির নৃবিজ্ঞান’ বুঝতে হলে অবশ্যই এনকালচারেশন প্রক্রিয়ার উপর গুরুত্ব দিতে হবে।

সাংস্কৃতিক অভিযোজন (Acculturation):

দুই বা ততোধিক ভিন্ন সংস্কৃতির লোকেদের মধ্যকার প্রত্যক্ষ সংস্পর্শের ফলে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, বিশ্বাস ও রীতিনীতি প্রভৃতির পরিবর্তন বা অভিযোজনের প্রক্রিয়াই সাংস্কৃতিক অভিযোজন।

ঔপনিবেশিক আধিপত্য এবং আদিবাসীদের সাংস্কৃতিক বিপর্যয় পর্যালোচনা করা ছিল সাংস্কৃতিক অভিযোজন পাঠের প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল। পরবর্তীতে অভিবাসীরা কীভাবে নতুন সংস্কৃতিতে মানিয়ে নেয় (স্বেচ্ছায় কিংবা বাধ্য হয়ে) তাতে দৃষ্টি দেয়। তবে এখন বিশ্বায়নের যুগে বিভিন্ন জাতিগত গোষ্ঠী দ্বৈত সংস্কৃতিতে কীভাবে একে অপরের সাথে মিথস্ক্রিয়া করে এবং বসবাস করে তা নিয়ে পর্যালোচনা করে। 

সাংস্কৃতিক অভিযোজন প্রক্রিয়া আরো আছে অন্তর্ভুক্তি (Incorporation) এবং জবরদস্তিমূলক পরিবর্তন। অন্তর্ভুক্তি প্রক্রিয়ায় সামাজিক ও আর্থিক সম্পর্কের ফলে স্বাভাবিক সাংস্কৃতিক প্রথা বিনিময় ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন সাধিত হয়। ধর্মীয় সমন্বয় বা Religious syncretism এর একটি উদাহরণ।যেমন  বাংলাদেশের সুন্দরবন অঞ্চলে যারা জীবিকার তাগিদে বনে যান তাদের মধ্যে এটি দেখা যায়। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বনবিবির উপাসনার পাশাপাশি গাজী পীরকে স্মরণ করে। তাছাড়া বর্তমানেও তারা পীরের দেয়া তাবিজ ব্যবহার করে বনযাত্রা করে থাকে। মুসলিমরা পীরের দেয়া তাবিজের পাশাপাশি বনবিবির নামও জপে থাকে।

জবরদস্তিমূলক পরিবর্তনে কোন একটি সংস্কৃতি অপর সংস্কৃতির উপর সামরিক শক্তি প্রয়োগ বা রাজনৈতিক কর্তৃত্ব দখলের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ঘটিয়ে থাকে। ঔপনিবেশবাদ এর সবচেয়ে উৎকৃষ্ট উদাহরণ। অন্তর্ভুক্তির মত কিছু নির্দিষ্ট সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ঘটালেও এর ফলাফল আরো জটিল। কেননা এটি সাংস্কৃতিক অভিযোজন নয় বরং প্রতিস্থাপন।

তথ্যসূত্রঃ

  • নৃবিজ্ঞানের প্রথম পাঠ-রেহনুমা আহমেদ, মানস চৌধুরী
  • Cultural Anthropology – Sarena Nanda, Richard L. Warms.
  • Cultural Anthropology- Conrad Phillip Kottak
  • নৃবিজ্ঞান পাঠপরিচয়- মাহফুজ সরকার, শাহারিয়ার জিম

Related Articles

লেভিস্ত্রসের চিন্তা ও পুরাণের কাঠামোগঠন

ক্লদ লেভিস্ত্রস নৃবিজ্ঞান মহলে এক অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব। নৃবিজ্ঞানে ভাষাতত্ত্ব ও কাঠামোবাদ তত্ত্বের সাথে তার নাম জড়িয়ে আছে।...

প্রথম বছর পূর্তি এবং কিছু নির্বাচিত লেখা

১৩ নভেম্বর ২০২০ সাল,এনথ্রোসার্কেল পূর্ণ করেছে তার পথচলার এক বছর। এক বছর আপনাদের যতটুকু ভালোবাসা আমরা পেয়েছি তা সত্যিই আশার অতীত...

জেমস ফ্রেজার ও তার তত্ত্ব

জেমস ফ্রেজার ১৮৫৪ সালের ১ লা জানুয়ারি স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি গ্লাসগো ইউনিভার্সিটি...

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

Latest Articles

লেভিস্ত্রসের চিন্তা ও পুরাণের কাঠামোগঠন

ক্লদ লেভিস্ত্রস নৃবিজ্ঞান মহলে এক অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব। নৃবিজ্ঞানে ভাষাতত্ত্ব ও কাঠামোবাদ তত্ত্বের সাথে তার নাম জড়িয়ে আছে।...

প্রথম বছর পূর্তি এবং কিছু নির্বাচিত লেখা

১৩ নভেম্বর ২০২০ সাল,এনথ্রোসার্কেল পূর্ণ করেছে তার পথচলার এক বছর। এক বছর আপনাদের যতটুকু ভালোবাসা আমরা পেয়েছি তা সত্যিই আশার অতীত...

জেমস ফ্রেজার ও তার তত্ত্ব

জেমস ফ্রেজার ১৮৫৪ সালের ১ লা জানুয়ারি স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি গ্লাসগো ইউনিভার্সিটি...

দ্যা মেথডস অফ এথনোলোজি- ফ্রাঞ্জ বোয়াস

শেষ দশ বছরে ধরে সভ্যতার ঐতিহাসিক বিকাশের ব্যাপারগুলো পর্যালোচনা করার পদ্ধতিগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে।...

বর্জন সংস্কৃতি এবং কণ্ঠরোধের ঐতিহাসিক চর্চা

'বর্জন' কী এবং শব্দটি ব্যবহারের তাৎপর্য  এপ্রিল ২০২১ সালে, ইউরো ২০২০ ফাইনালের মাত্র কয়েক মাস...