সামাজিক বিবর্তনবাদ

[এনথ্রোসার্কেলে সামাজিক বিবর্তনবাদ নিয়ে লিখেছেন আবদুল্লাহ হেল বুবুন।]

বিভিন্ন জ্ঞানশাস্ত্রে সাধারণত ‘তত্ত্ব’ ও ‘তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি’- এই দুইয়ের মাঝে ফারাক টানা হয়৷ তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি বলতে সাধারণত কোন গ্র্যান্ড থিওরিকে বোঝানো হয়, যা আসলে দুনিয়াকে দেখার এবং তাকে উপলব্ধি করার একটি বিস্তৃত  দৃষ্টিভঙ্গি। এই বিস্তৃত দৃষ্টিভঙ্গি সাধারণত প্যারাডাইম নামে পরিচিত৷

প্রত্যেক জ্ঞানশাস্ত্রের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো বিভিন্ন প্যারাডাইমের অস্তিত্ব এবং এদের রূপান্তর। বিজ্ঞানের দার্শনিক থমাস কুনের ১৯৬২ সালে প্রকাশিত বই ‘দি স্ট্রাকচার অব সায়েন্টিফিক রেভ্যুলুশান’ জ্ঞানশাস্ত্রে প্যারাডাইমের রূপান্তর বুঝতে বিশেষভাবে সহায়ক। কুনের বিষয়বস্তু প্রাকৃতিক বিজ্ঞান হলেও তার তত্ত্ব সামাজিক বিজ্ঞানীদের নিজেদের শাস্ত্রকে বুঝতে সাহায্য করেছে৷ কুনের মতে, প্যারাডাইম হলো একটি বৃহত্তর তত্ত্ব যার অধীনে বিভিন্ন ক্ষুদ্র তত্ত্ব কাজ করে৷ কুন দেখিয়েছেন যে, এক একটি ঐতিহাসিক অবস্থায় জীববিদ্যা, পদার্থবিদ্যা, রসায়নবিদ্যা প্রভৃতি নানা বিষয়ে বিজ্ঞানের অগ্রগতি ঘটে এক একটি প্যারাডাইমকে আশ্রয় করে, এবং সেই প্যারাডাইমকে ভিত্তি করেই গড়ে ওঠে একেকটি বৈজ্ঞানিক গোষ্ঠী বা ঘরানা৷ কিন্তু একটা সময় আসে যখন একটি প্যারাডাইমের অন্তর্গত ছোট তত্ত্বগুলো আর ঐ একই প্যারাডাইম থেকে উদ্ভূত নতুন প্রশ্ন বা সমস্যার সমাধান দিতে পারেনা, তখন ঐ প্যারাডাইমে একটি সংকট ঘটে এবং এই সংকটের অনিবার্য পরিণতি হলো নতুন প্রশ্নের উত্তর বা উত্তর খোঁজার পক্ষে অনুকূল এমন কোন তত্ত্ব দ্বারা প্যারাডাইমের রূপান্তর অথবা এই নতুন ও আরও বড় তত্ত্বে পূর্ববর্তী প্যারাডাইমের অন্তর্ভুক্তিকরণ৷ 

শাস্ত্র হিসেবে নৃবিজ্ঞানও নানা প্যারাডাইমের জন্ম দিয়েছে এবং বিভিন্ন প্যারাডাইম রূপান্তরের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়েছে। ঊনবিংশ শতকে একটি জ্ঞানশাস্ত্র হিসেবে নৃবিজ্ঞান যখন বিকশিত হচ্ছিল তখন এই শাস্ত্রের প্রভাবশালী তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি বা প্যারাডাইম ছিলো সামাজিক বিবর্তনবাদ। এই তত্ত্ব একরৈখিক বিবর্তনবাদ নামেও পরিচিত৷ এই তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, সকল সমাজ ও সংস্কৃতি পর্যায়ক্রমে ধাপে ধাপে একটি আদিম বা সরল অবস্থা থেকে ক্রমশই জটিল থেকে জটিলতর স্তরে উন্নীত হয়,  এবং প্রত্যেক সমাজই  নির্দিষ্ট কয়েকটি সর্বজনীন স্তরের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়৷

সামাজিক বিবর্তনবাদের স্বর্ণযুগ বলা হয় ১৮৬০ থেকে ১৮৯০ পর্যন্ত সময়কালকে। পরবর্তী সময়ে এই তত্ত্বের প্রভাব কমলেও এটা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানের প্রথম পঞ্চাশ বছরে এই তত্ত্ব একচ্ছত্র আধিপত্য স্থাপন করেছিল। এই সময়ে বিবর্তনবাদী মডেল সমাজের সার্বিক পরিবর্তনের এবং সমাজের সব অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের তথা বিবাহব্যবস্থা, পরিবার, অর্থনীতি, ভাষা, ধর্ম ও রাষ্ট্রের উদ্ভব, বিকাশ ও ক্রমপরিবর্তনের ধারাকে ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করা হয়।

ঊনবিংশ শতকের নৃবিজ্ঞানে বিবর্তনবাদের প্রাধান্যকে কোনভাবেই জ্ঞানজগতে একটি ‘নতুনত্ব’ বলে আখ্যায়িত করা যাবে না। এর কারণ,  বিবর্তনবাদী ধ্যানধারণা ইউরোপীয় বুদ্ধিবৃত্তিক জগতে নতুন কিছু ছিল না। সপ্তদশ শতকে ইতালীয় দার্শনিক ভিকো বিশ্বজনীন ইতিহাস লেখার প্রচেষ্টায় বিবর্তনবাদী সামাজিক প্রগতির ধারণা ব্যক্ত করেন৷ ভিকো বিশ্বের ইতিহাসকে তিনটি স্তরে বিভক্ত করেছিলেন এবং সামাজিক অগ্রগতি বিষয়ক এই প্রস্তাবনা দেন যে, , প্রতিটি সমাজ নির্দিষ্ট ও সংজ্ঞায়িত বৈশিষ্ট্যের তিনটি স্তরের মাধ্যমে এগোয়৷ ভিকোর মতে, প্রথম স্তর ছিল ঈশ্বরের যুগ, যখন মানুষ প্রকৃতি পূজা করতো। তারপর আসে বীরের যুগে, যখন সামাজিক অসাম্যের কারণে সমাজে অশান্তি বিরাজমান ছিলো৷ ভিকোর কাছে সামাজিক অগ্রগতির চূড়ান্ত যুগ হলো সেই ভবিষ্যৎ কাল যখন সমাজকে পরিচালনাকারী শক্তি হবে যুক্তি এবং এই যুগকে ভিকো আখ্যায়িত করেছেন যুক্তির যুগ হিসেবে৷ ভিকোর মতে, এই যুগগুলো ইহজাগতিক ও মানবিক কর্মপ্রচেষ্টার ফসল৷ আলোকায়নের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিলো বিশ্বজনীন ইতিহাস রচনার প্রচেষ্টা। বিশ্বজনীন ইতিহাস রচনায় যারা নিয়োজিত ছিলেন, তাদের মধ্যে অ্যান রবার্ট জ্যাক টারগো, অ্যাডাম ফারগুসন, জন মিলার ও উইলিয়াম রবার্টসন প্রমুখের লেখনীতে প্রাক-নৃবৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় পাওয়া যায়৷ অ্যাডাম ফার্গুসন এমনকি অসভ্যতা, বর্বরতা ও সভ্যতার সুপরিচিত ছাঁচটাও ব্যবহার করেছিলেন, যা উনবিংশ শতকে মূলধারার নৃবিজ্ঞানের কেন্দ্রীয় প্রত্যয় হয়ে দাঁড়ায়। একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য বাদে ধ্রুপদী সাংস্কৃতিক বিবর্তনবাদকে একদিক থেকে আলোকায়ন ইতিহাসবাদের ধারাবাহিকতা বা সম্প্রসারণ বলা যেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যটি হলো, অষ্টাদশ শতকের বিশ্বজনীন ইতিহাসবিদরা যেখানে আধুনিক পাশ্চাত্যের ইতিহাস লিখেছেন, সেখানে উনবিংশ শতকের সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানীদের আলোচনার কেন্দ্রীয় বিষয়বস্তু ছিলো প্রাগৈতিহাসিক কালের অ-পাশ্চাত্য জনগোষ্ঠী।  

শিকারি-সংগ্রহকারী সমাজ

আবার, উনবিংশ শতকে ইউরোপীয় সমাজে এবং একইসাথে নৃবিজ্ঞানে প্রভাবশালী অ-ইউরোপীয় জনগোষ্ঠীর উপর ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের ধারণা খুঁজতে আমাদের ফিরে তাকাতে হবে পনের শতকের দিকে৷ ঐ সময়ে আমেরিকা আবিষ্কারের ফলে ইউরোপীয় মানস নেটিভ আমেরিকানদের সংস্পর্শে এসে। চেহারা ও আচরণে ইউরোপীয়দের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা নেটিভ আমেরিকানদের জীবনযাত্রাকে অধিকাংশ এথনোসেন্ট্রিক ইউরোপীয় বুদ্ধিজীবীদের কাছে মনে হয়েছিল হীন ও অস্বাভাবিক। তখন তারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, নেটিভ আমেরিকানরা মানব বিকাশের একটি প্রাথমিক স্তরের প্রতিনিধিত্ব করে৷

কমনসেন্স থেকে অনেকেই ধারণা করেন যে, সামাজিক বিবর্তন এসেছে ডারউইনের প্রাকৃতিক বিবর্তনীয় তত্ত্ব থেকে। কিন্তু উপরের আলোচনা থেকে আমরা নিঃসন্দেহে বুঝতে পারি, সামাজিক বিবর্তনীয় চিন্তাধারা ইউরোপে ডারউইনের বহু পূর্ব থেকেই শক্তিশালী ছিল। তবে এ কথা স্বীকার করতে হবে যে, ডারউইনের বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার এবং সমাজে এর স্বীকৃতি বিবর্তনীয় তাত্ত্বিকদের প্রভাবিত করেছিল এবং তারা এ ব্যাপারে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে যে, সংস্কৃতিকে ব্যবচ্ছেদের মাধ্যমে প্রকৃতির মতো সমাজ-সংস্কৃতিরও বিশ্বজনীন ও প্রাকৃতিক ইতিহাস রচনা করা সম্ভব।

সামাজিক বিবর্তনবাদ

নৃবিজ্ঞানে বিবর্তনবাদী চিন্তার চারটি শাখা দেখা যায়৷ একরৈখিক বিবর্তনবাদ, সর্বজনীন বিবর্তনবাদ, বহুরৈখিক বিবর্তনবাদ ও নব্য-ডারউইনবাদ৷ বিবর্তনবাদের প্রথম তিনটি শাখা একটি ক্রমান্বয়িক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে এবং এই তিনটি শাখার নামকরণ করেন বহুরৈখিক বিবর্তনবাদের অনুসারী জুলিয়ান স্টিউয়ার্ড। অন্যদিকে নব্য-ডারউইনবাদের রূপ ভিন্ন, যার উৎস পাওয়া যায় সত্তরের দশকের সোশিওবায়োলজিতে।

উনবিংশ শতকে বিবর্তনবাদের প্রভাবশালী শাখা একরৈখিক বিবর্তনবাদের অনুসারী তাত্ত্বিকদের ‘প্রধান’ ও ‘অপ্রধান’- এই দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। প্রধান শ্রেণির তাত্ত্বিকরা তাদের বলা হচ্ছে যারা নৃবিজ্ঞানের এই ধারায় লেখক হিসেবে অধিকতর মৌলিক ও প্রভাবশালী ভূমিকা রেখেছেন৷ অন্যদিকে ‘অপ্রধান’ তাত্ত্বিক হচ্ছেন তারা যাদের অ্যাকাডেমিয়ায় প্রভাব কম ছিলো, লিখেছেন কম এবং যতোটা না মৌলিক কাজ করেছেন, তার থেকে বেশী বিবর্তনবাদী ধারার অন্যান্য লেখকদের কাজ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করেছেন। ‘প্রধান’ শ্রেণির সামাজিক বিবর্তনবাদীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন হারবার্ট স্পেন্সার, জন লুবকক, অ্যাডওয়ার্ড টাইলর, হেনরি লিউস মরগান ও জেমস ফ্রেজার। অন্যদিকে, হেনরি মেইন, জোহান বাখোফেন ও জন ম্যাকলেনানকে এই ধারার অপ্রধান তাত্ত্বিক বলা যেতে পারে। বিবর্তনবাদী তাত্ত্বিকদের মধ্যে জার্মান বাখোফেন ও আমেরিকান মর্গান বাদে বাকি সবাই ছিলেন ব্রিটিশ। এবং তাদের কাজে প্রত্যক্ষ্য বা অপ্রত্যক্ষভাবে উনবিংশ শতকের ভিক্টোরিয়ান সামাজিক-সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ ও এথনোসেন্টিক ধ্যানধারণা প্রতিফলিত হয়েছে৷

হারবার্ট স্পেন্সার

সামাজিক বিবর্তনবাদীদের চিন্তার মডেল একই ধরণের বা কাছাকাছি হলেও তাদের বিষয়বস্তু ছিল ভিন্ন। মরগানের নেতৃত্বে একদল বিবাহ, জ্ঞাতিত্ব ও সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠন অধ্যয়নে আগ্রহী ছিলো। অন্যদিকে মরগান ও ফ্রেজারকে অনুসরণ করে আরেকদল বিবর্তনবাদী জোর দিয়েছেন বিশ্বাস, জাদু ও অন্যান্য ভাবাদর্শিক ব্যবস্থার উপর। উল্লেখযোগ্য যে, দার্শনিক ও সমাজবিজ্ঞানী হিসেবে অধিক পরিচিত স্পেন্সার ও প্রত্নতত্ত্ববিদ লুবকক বাদে অন্যান্য সব সামাজিক বিবর্তনবাদীই এই দুই ধারার যেকোনো একটিতে কাজ করেছেন।

একরৈখিক বিবর্তনবাদী তত্ত্ব অনুযায়ী, বিবর্তন প্রক্রিয়ার একটি নির্দিষ্ট ও বিশ্বজনীন বিধান রয়েছে৷ অন্যকথায়, প্রত্যেক সমাজই কয়েকটি নির্দিষ্ট ও বিশ্বজনীন ধাপের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়৷ বিভিন্ন সমাজ বিভিন্ন গতিতে অগ্রসর হওয়ার ফলে যেসব সমাজ অপেক্ষাকৃত দ্রুত গতিতে বিকশিত হয়, তারা অন্যান্য সমাজ (যাদের বিকাশের গতি ধীর) তাদের থেকে প্রগতি বা উন্নয়নের উপরের ধাপে অবস্থান করে। সামাজিক বিবর্তনবাদীরা সমাজের বিবর্তনকে ভিন্ন ভিন্ন কয়েকটি পর্বে বিভক্ত করেন: অসভ্যতা, বর্বরতা, সভ্যতা ইত্যাদি। লুইস হেনরি মরগান আবার অসভ্যতা ও বর্বরতা- এই দুই পর্বকে আরও তিনটি স্তরে ভাগ করেন: নিম্ন, মধ্য ও উচ্চ। অবশ্য সভ্যতার ক্ষেত্রে মর্গান এমন কোন স্তরীকরণ করেননি এবং সভ্যতাকে দেখেছেন অভিন্ন রূপে, যে সভ্য সমাজের উদাহরণ হলো তৎকালীন ইউরোপ। সমাজকে বিভিন্ন ধাপে বা পর্বে বিভক্ত করার ক্ষেত্রে এই ধারার তাত্ত্বিকরা প্রাধান্য দিয়েছে বস্তুগত ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নকে। এই ছাঁচে অসভ্যরা শিকারি ও খাদ্য সংগ্রহকারী; বর্বররা কৃষি কাজ করে; আর সভ্যতার বৈশিষ্ট্য হলো রাষ্ট্রগঠন ও নগরায়ন। তবে রাজনৈতিক ব্যবস্থা, বিবাহ, পরিবার ও ধর্মীয় ক্যাটাগরিও তারা বিবেচনায় এনেছেন৷ আসলে, বিবর্তনবাদী চিন্তা অনুযায়ী, সমাজের এক অংশের বিবর্তন অন্য অংশেও বিবর্তনীয় রূপান্তর ঘটায়। অর্থাৎ, প্রযুক্তিগত রূপান্তর ঘটলে জ্ঞাতিত্ব বা বিবাহ ব্যবস্থায়ও অনুরূপ বিবর্তনীয় পরিবর্তন ঘটে।

সামাজিক বিবর্তনবাদের ভিত্তি দাঁড়িয়েছিল জার্মান সাংস্কৃতিক ইতিহাসবিদ অ্যাডল্ফ বাস্তিয়ানের ‘মনস্তাত্ত্বিক একতার নীতির’ উপর। এই নীতি অনুযায়ী, মানবজাতি জৈবিকভাবে একই প্রজাতি থেকে উদ্ভূত; মানুষের মন বৈশ্বিকভাবে একই বৈশিষ্ট্যের। এ কারণে বিভিন্ন সমাজের মানুষ একই ধরণের সংস্কৃতি তৈরি করে; এবং একই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর তা সর্বোচ্চ উন্নতি লাভ করে৷ অর্থাৎ একজন ‘অসভ্য’ ও ‘সভ্য’ মানুষের মানসিক সক্ষমতা এক, শুধু উন্নয়ন বা প্রগতির ভিন্ন ধাপে থাকার কারণে তারা ভিন্ন সংস্কৃতি নির্মাণ করছে। এটা মনে রাখা জরুরি যে, সামাজিক বিবর্তনবাদ বৈজ্ঞানিক বর্ণবাদের সাথে যুক্ত ছিল না। অস্ট্রেলিয়ার কোন বুশম্যান আর ইউরোপের একজন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রের মানসিক সক্ষমতা এক –  ১৮৭০ এর দশকে এটা বলা ছিল তৎকালীন ইউরোপীয় সমাজে প্রচলিত বৈজ্ঞানিক বর্ণবাদের বিরুদ্ধে একটি র‍্যাডিকেল চ্যালেঞ্জ; এটা বলা যে, শ্বেতাঙ্গ ও অ-শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে কোন গুনগত পার্থক্য নেই। এক্ষেত্রে ফ্রাঞ্জ বোয়াসকেও তার পূর্বসুরী ভিক্টোরিয়ানদের প্রশংসা করতে হবে, যারা অনৈতিহাসিক সাধারণীকরণের জন্য বোয়াসের তীব্র সমালোচনার শিকার হয়েছেন। এটা মনে রাখাও জরুরী যে, অধিকাংশ বিবর্তনবাদীই উনবিংশ শতকের প্রগতিশীল ও উদারনৈতিক রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। পেশাগতভাবে একজন আইনজীবী লুইস হেনরি মরগান এমনকি নেটিভ আমেরিকানদের ভূমি অধিকারের জন্যও লড়েছিলেন।

‘মনস্তাত্ত্বিক একতার নীতি’ সামাজিক বিবর্তনবাদীদের দিয়েছিলো এমন একটি জিনিস যা বিজ্ঞানীদের দরকার- একটি ধ্রুবক। এই নীতি গ্রহণ করার মাধ্যমেই উদ্ভব ঘটেছে তুলনামূলক পদ্ধতির, যা নৃবিজ্ঞানীদের জন্য মানবজাতির ইতিহাস এবং প্রাক-ইতিহাস পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব করে তুলেছিল। যেহেতু মানসিক সাদৃশ্য থাকার কারণে পৃথিবীর সব জনগোষ্ঠী একই ধরণের সংস্কৃতি তৈরি করে, তাই তৎকালীন ‘আদিম’ সমাজগুলোকে বিবর্তনবাদীরা দেখতে শুরু করে মানবসভ্যতার প্রাথমিক অবস্থার নিদর্শন হিসেবে, যে আদিম সমাজগুলো উন্নয়ন বা প্রগতির একটি নিচের ধাপে অবস্থান করছে। তুলনামূলক পদ্ধতি অনুযায়ী, যেসকল সমাজ ও সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্য একই, তারা সামাজিক বিবর্তনের একই পর্ব বা ধাপে অবস্থান করে। এই পদ্ধতির অনুসরণকারীরা মনে করতেন প্রকৃতির মতো সমাজেরও কিছু বিশ্বজনীন বিধান আছে এবং এই বিধান অনুসরণ করে তথা একটি সমাজের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে বোঝা সম্ভব হয় সেই সমাজ উন্নয়ন বা প্রগতির কোন ধাপে রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, তারা মনে করতেন, মাতৃসুত্রীয় সমাজ থেকে পিতৃসুত্রীয় সমাজ আরও জটিল, বিকশিত  ও উন্নত সমাজকে নির্দেশ করে৷ এই ‘মনে করা’-র ক্ষেত্রে তাদের যুক্তি ছিল পিতৃসুত্রীয় সমাজ নির্দিষ্ট নৈতিক সততা, সামাজিক বিশ্বস্ততা ও সামাজিক স্থায়িত্বের উপর নির্ভর করে। কারণ, একটি শিশুর মাতৃত্ব নিয়ন্ত্রণ করা যতোটা সহজ, পিতৃত্ব নিয়ন্ত্রণ করা ততোটা সহজ নয়। তাই যখন পিতার মাধ্যমে বংশধারা নির্ধারিত হয়, তখন সেটা যৌন সম্পর্ক ও জ্ঞাতিত্বের একটি বিবর্ধিত ধাপের চিহ্ন বহন করে৷ তারা এই যুক্তিও দেয় যে, শুধু সামাজিক বিবর্তনের ‘অসভ্যতা’ ও ‘বর্বরতার’ ধাপেই মাতৃসুত্রীয় সমাজব্যবস্থা দেখা যায়৷ কারণ, তারা ধরে নিয়েছিলো, সেই সময় অবাধ যৌনাচারের প্রচলন ছিল এবং গোষ্ঠীবিবাহ ছিল। যার ফলে, কোন একটা সমাজে সন্তানের বাবার পরিচয় সুস্পষ্ট ছিল না, কেবলমাত্র মায়ের পরিচয়ই জানা যেত। সে কারণে, সেখানকার সমাজগুলোও ছিল মাতৃতান্ত্রিক। মাতৃসুত্রীয় বংশধারা থেকে পিতৃসুত্রীয় বংশধারা অধিকতর উন্নত- এই ধারণা পোষণ করার ক্ষেত্রে সামাজিক বিবর্তনবাদীরা তৎকালীন ভিক্টোরিয়ান পুরুষতান্ত্রিক মূল্যবোধ দ্বারা প্রভাবিত ছিল।

সামাজিক বিবর্তনবাদের সমালোচনা

সামাজিক বিবর্তনবাদ বৈজ্ঞানিক বর্ণবাদের সাথে সম্পর্কিত না হলেও এই তত্ত্বের ইউরোকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি অন্য এক ধরণের সামাজিক বৈষম্য নীতির জন্ম দেয়। বিবর্তনবাদী সামাজিক প্রগতির ধারণা অনুযায়ী তৎকালীন ইউরোপকে (বিশেষ করে পশ্চিম ইউরোপ) মনে করা হতো সামাজিক প্রগতির শীর্ষবিন্দু। এই তত্ত্বের অনুসরণকারীরা মনে করতেন, ইউরোপীয় সমাজ অ-ইউরোপীয় সমাজ শুধুমাত্র অপেক্ষা অধিক জটিলই নয়, সেই সমাজ অ-ইউরোপীয় সমাজ থেকে নৈতিকভাবেও উত্তম৷ মূলত সামাজিক বিবর্তনবাদ ছিল বিজ্ঞানের মুখোশ পড়া একটি নৈতিক দর্শন; এই তত্ত্বে বিবর্তনের একটি উদ্দেশ্য ও ডিজাইন ছিল।

উনবিংশ শতকের মধ্যভাগ বিশেষ করে ১৮৭০ থেকে ১৯১৪ পর্যন্ত সময়কাল ছিল ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদের স্বর্ণযুগ। এই সময়কে ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ এরিখ হবসবম ‘এইজ অব এম্পায়ার’ নামে আখ্যায়িত করেন। একই সময়ে সামাজিক বিবর্তনবাদের ইউরোকেন্দ্রিক মতবাদ উপনিবেশবাদ ও তার সাথে যুক্ত ইউরোপীয় ‘সিভিলাইজিং মিশন’ বৈধতাদানে সহায়তা করেছে। ঔপনিবেশিক শাসক ও খ্রিস্টান মিশনারি কর্তৃক ব্যবহৃত ইউরোপীয় সিভিলাইজিং মিশনের যুক্তি ছিল এইরূপ: যেহেতু ইউরোপ সামাজিক প্রগতির চূড়ায় আছে, সেহেতু তাদের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে অ-পাশ্চাত্যের অন্যান্য জনগোষ্ঠীরা নিজেদের অবস্থার উন্নতি করতে পারবে।

বিবর্তনবাদীদের মধ্যে মর্গান বাদে অন্যান্য কোন তাত্ত্বিকই তেমন একটা মাঠকর্মের আশ্রয় নেননি। বরং তাদের অধিকাংশ তথ্য-উপাত্তের উৎস ছিল ভ্রমণকারী, মিশনারি, ব্যবসায়ী এবং ঔপনিবেশিক কর্মকর্তাদের পাঠানো বিবরণী এবং অনেক সময় বিবর্তনবাদীদের পাঠানো প্রশ্নমালার উত্তর। এমনকি মর্গানও ইরাকোয়া সমাজ বাদে অন্যান্য সমাজগুলো নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন বিভিন্ন দূর্বল উৎসের উপর ভিত্তি করে। জাতিকেন্দ্রিকতার জন্য নিন্দিত সামাজিক বিবর্তনবাদীদের এ কারণে আর্মচেয়ার অ্যানথ্রোপলজিস্ট বা কুর্সি-কেদারার নৃবিজ্ঞানীও বলা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিবর্তনবাদী তাত্ত্বিকদের সংগ্রহকৃত তথ্য-উপাত্তের গুনগত মান ছিল অসম প্রকৃতির এবং এদের বিশ্বাসযোগ্যতাও ছিল অনেক কম। আর এসব তথ্য-উপাত্তের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠা অধিকাংশ বিবর্তনবাদী তত্ত্বই ছিল অনৈতিহাসিক ও অতি সরলীকৃত। এছাড়া উনবিংশ শতকের বিবর্তনবাদীদের দ্বারা ব্যবহৃত তুলনামূলক পদ্ধতি তৎকালীন ‘আদিম’ সমাজগুলোকে প্রাক-ইতিহাসের ‘ফসিল’ হিসেবে দেখার কারণে পরবর্তীতে সমালোচিত হয়।

পর্যালোচনা

ক্রিয়াবাদ ও ঐতিহাসিক নির্দিষ্টতাবাদের আবির্ভাবের পূর্বে সমাজ-সংস্কৃতিকে বোঝা ও ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানের প্রধান প্যারাডাইম ছিলো সামাজিক বা সাংস্কৃতিক বিবর্তনবাদ৷ ইউরোকেন্দ্রিকতা, অনৈতিহাসিক ধ্যানধারণা, অতি-সাধারণীকরণ ও উৎস-উৎপত্তি নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত নিবিষ্টতার জন্য পরবর্তীকালে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হওয়া এই তত্ত্ব নৃবিজ্ঞানের কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রেখেছে। বিবর্তনবাদী তাত্ত্বিক মর্গান জ্ঞাতিত্বকে নৃবৈজ্ঞানিক অধ্যয়নের একটি কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন, যা আজ পর্যন্ত টিকে আছে। মর্গান জ্ঞাতি পদাবলীকে দুইভাগে ভাগ করেছিলেন: শ্রেণিবাচক ও বর্ণনাসূচক; এই বিভাজন আজও নৃবিজ্ঞানে ব্যবহৃত হয়। দ্বিতীয়ত, মর্গানের পরিবার ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিকাশের তত্ত্ব কার্ল মার্ক্স ও ফ্রেডরিখ এঙ্গেলসকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিলেন। তারা নিজেদের থিওরেটিকাল ফ্রেমওয়ার্কে মর্গানের গবেষণালব্ধ তথ্যকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং তাদের এই কর্মপ্রচেষ্টার ফসল ছিল ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত এঙ্গেলসের ‘অরিজিন অব দি ফ্যামিলি, প্রাইভেট প্রোপার্টি অ্যান্ড দি স্টেট।’ 

মর্গানের ‘এনসিয়েন্ট সোসাইটি’ বইটির প্রচ্ছদ।

টাইলরই প্রথম ব্যক্তি যিনি সংস্কৃতিকে নৃবৈজ্ঞানিক লেন্সে দেখেছেন। টাইলরের পূর্বে সংস্কৃতি বলতে সাধারণত শিল্প-সাহিত্য-কলাকেই বোঝানো হতো৷ অন্যদিকে, টাইলারের কাছে সংস্কৃতি ছিলো “এমন এক জটিল বিন্যাস যা সমাজের সদস্য হিসেবে মানুষের অর্জিত জ্ঞান, বিশ্বাস, শিল্পকলা, আইন, নৈতিকতা, প্রথা এবং অন্যান্য সামর্থ্য ও অভ্যাসকে অন্তর্ভুক্ত করে।” এখানে উল্লেখযোগ্য যে, টাইলারের সংস্কৃতি সংজ্ঞায়নে কোন বিবর্তনীয় ছাঁচ নেই এবং ‘পলিটিক্যালি কারেক্ট’ এই সংজ্ঞা আজ পর্যন্ত নৃবিজ্ঞানীদের কাছে বিবেচিত হয় সংস্কৃতির অন্যতম গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা হিসেবে।

বিংশ শতকের প্রথম দিকে ম্যালিনস্কি ও বোয়াস  মাঠকর্মকে সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানের একটি অপরিহার্য অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। এর সাথে সহবর্তী আরেকটি প্রক্রিয়া ছিল নৃবিজ্ঞানীদের মাঝে সর্বব্যাপক গ্রান্ড থিওরি তৈরির প্রবণতা হ্রাস ও সমাজ-সাংস্কৃতিক গবেষণায় নির্দিষ্টতার উপর অধিক জোরারোপ। ফলে বিংশ শতকের প্রায় সকল নৃবৈজ্ঞানিক তত্ত্বই ছিল একরৈখিক বিবর্তনবাদবিরোধী। এমনকি আমেরিকার বোয়াসিয়ান ধারা গড়ে উঠেছিল শক্তভাবে বিবর্তনবাদকে মোকাবিলা করে। তবে সামাজিক প্রগতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিবর্তনবাদী তত্ত্বের বস্তুকে প্রাধান্য দান ও আন্তঃ-সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ পরবর্তী সময়ে মার্ক্সবাদী নৃবিজ্ঞান ও নব্য-বিবর্তনবাদীদের কিছুটা প্রভাবিত করেছিল।

রেফারেন্স:

১) বার্নার্ড, অ্যালেন (২০০০) থিওরি অ্যান্ড হিস্ট্রি ইন অ্যান্থ্রোপলজি, ক্যাম্ব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড

২) এঙ্গেলকে, ম্যাথিউ (২০১৭), থিংক লাইন অ্যান্থ্রোপলজিস্ট, পেলিকান

৩) এরিখসেন, থমাস হাইল্যান্ড (১৯৮৩), অ্যা হিস্ট্রি অব অ্যান্থ্রোপলজি, প্লুটো প্রেস

৪) মারফি ডি, লিয়াম ও এরিকসন, পল (১৯৯৮), অ্যা হিস্ট্রি অব অ্যান্থ্রোপলজিকাল থিওরিস, ইউনিভার্সিটি অব টরোন্টো প্রেস

৫) মুর, জে ডি (১৯৯৭), ভিসনস অব কালচার, রওম্যান অ্যান্ড লিটলফিল্ড পাব্লিশার্স

৬) জিম, শাহরিয়ার ও সরকার, মাহফুজ (২০২০), নৃবিজ্ঞান পাঠপরিচয়, সংবেদ

Related Articles

পরিবেশ প্রশ্নে নৃবৈজ্ঞানিক ভাবনা

১  শুরুর আলাপ চলুন, প্রথমেই দুইটা বিষয়ের ফয়সালা করা যাক। তারপর ধীরেধীরে...

এথনোমিউজিকোলজিঃ পরিচয়, ইতিহাস ও পদ্ধতি

ভূমিকা  নির্দিষ্ট ভাষাসূত্রে আবদ্ধ কোন নির্দিষ্ট নৃগোষ্ঠীর সংগীত ও সাংগীতিক পরিসরকে...

সামাজিক বিবর্তনবাদ

বিভিন্ন জ্ঞানশাস্ত্রে সাধারণত 'তত্ত্ব' ও 'তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি'- এই দুইয়ের মাঝে ফারাক টানা হয়৷ তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি বলতে সাধারণত কোন...
- Advertisement -

Latest Articles

পরিবেশ প্রশ্নে নৃবৈজ্ঞানিক ভাবনা

১  শুরুর আলাপ চলুন, প্রথমেই দুইটা বিষয়ের ফয়সালা করা যাক। তারপর ধীরেধীরে...

এথনোমিউজিকোলজিঃ পরিচয়, ইতিহাস ও পদ্ধতি

ভূমিকা  নির্দিষ্ট ভাষাসূত্রে আবদ্ধ কোন নির্দিষ্ট নৃগোষ্ঠীর সংগীত ও সাংগীতিক পরিসরকে...

সামাজিক বিবর্তনবাদ

বিভিন্ন জ্ঞানশাস্ত্রে সাধারণত 'তত্ত্ব' ও 'তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি'- এই দুইয়ের মাঝে ফারাক টানা হয়৷ তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি বলতে সাধারণত কোন...

কেন নৃবিজ্ঞান গুরত্বপূর্ণ?

নৃবিজ্ঞানকে প্রায়শই বর্ণনা করা হয় 'অপরিচিতকে পরিচিত' এবং 'পরিচিতকে অপরিচিত' করার কলা হিসেবে। এই জ্ঞানশাস্ত্র 'বিজ্ঞানের মাঝে...

থিওরিঃ ম্যালিনস্কি

বিংশ শতকের নৃবিজ্ঞানে অন্যতম শক্তিশালী ধারা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলো “ক্রিয়াবাদী” ধারা। মূলত বিবর্তনবাদীদের দেয়া সংস্কৃতির ঐতিহাসিক বিবর্তনের...