রঙের নৃবিজ্ঞান
[রঙের নৃবিজ্ঞান নিয়ে লিখেছেন সাদিয়া শান্তা]
ঈশানি নাথ ২০২২ সালে The Juggernaut ওয়েবসাইটে Why The West Is Afraid Of Color শিরোনামে একটি লেখা প্রকাশ করেন। এই লেখায় তিনি তুলে ধরেন, পশ্চিমারা কিভাবে প্রাচ্যকে “colorful” আখ্যা দেওয়ার মাধ্যমে প্রাচ্যকে “exotic” বুঝাতো। তার মতে, প্রাচ্যের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসবের বৈচিত্র্যতা দেখে পশ্চিমারা যে সুরে বলতো “ওহ, তোমাদের উৎসব উযাপনগুলো আমার খুব ভালো লাগে, সেগুলো খুবই রঙিন”, সেই সুরে প্রাচ্যকে উদ্ভত, ভিন্ন, বিদেশী করে দেখার একটা ইঙ্গিত রয়েছে। তবে এই বক্তব্যটি যুক্তিযুক্ত; কেননা পাশ্চাত্যের তুলনায় প্রাচ্যে রঙের বাহার অধিকই লক্ষ্য করা যায়। তবে প্রাচ্য রঙিন হওয়ার পেছনে পরিবেশগত কারণ রয়েছে, নাকি ধর্মীয়, বা উৎসবজনিত কারণ রয়েছে তা নিয়ে এখনো তেমন গবেষণা হয়নি।
ঈশানি নাথ তার লেখায় বুটিকশিল্পী কৃতি মেহতার রঙ নিয়ে ভাবনা তুলে ধরেছেন। কৃতি মেহতা দেখিয়েছেন কিভাবে পাশ্চাত্যে ধীরে ধীরে রঙের আধিক্য কমে যাচ্ছে। তিনি একটি গবেষণার কথা উল্লেখ করেন যেখানে দেখানো হয়, পশ্চিমা দেশগুলো তাদের ঘরবাড়ির সাজসজ্জা, গাড়ির রঙ, আসবাবপত্র, এমনটি কার্পেটের রঙ বাছাই করার ক্ষেত্রেও এখন সাদা, ধূসর, কালো ইত্যাদি “neutral” রঙ ব্যবহার করছে। কিন্তু প্রত্নতাত্ত্বিক ইতিহাস মতে আগে তারা বিচিত্র রঙের দিকেই ঝুঁকতো। গবেষণায় আরো দেখা গেছে, এমনকি শুধু পাশ্চাত্য নয়, বরং প্রাচ্য থেকেও ধীরে ধীরে বাহারি রঙের ব্যবহার কমে আসছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম Tiktok এর স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বর্তমানে শার্ট, স্যুট, এমনকি নারীদের উৎসবের পোশাক লেহেঙ্গাতেও নির্দিষ্ট কিছু রঙের ব্যবহারই দেখা যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে লেহেঙ্গার রঙ নির্বাচন করা হয়, গোলাপি, মেজেন্টা ইত্যাদি রঙ থেকে। এই গবেষণার ফলাফল থেকে বলা যায়, দিনকে দিন আমাদের পৃথিবীটা রঙহীন হয়ে উঠছে। আর পাশ্চাত্যেরও বুঝি রঙ-বিমুখীতা ইতিহাস রয়েছে!


রঙ নিয়ে জ্ঞানকান্ডের বিভিন্ন শাখায় বিভিন্ন রকম গবেষণা হয়েছে। রঙের বৈচিত্র্যতার মতোই রঙ নিয়ে বিজ্ঞানী ও গবেষকদের ভাবনাও বিচিত্র। নৃবিজ্ঞানীদের চোখেও রঙ ধরা দিয়েছে গবেষণার রঙিন ক্ষেত্র হিসেবে। রঙ নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন জৈবিক নৃবিজ্ঞানী, চিকিৎসা নৃবিজ্ঞানী, প্রত্নতাত্ত্বিক, ও মনস্তাত্ত্বিক নৃবিজ্ঞানীগণ। কারণ রঙ গবেষণার একটা বিশেষ ক্ষেত্র হলো বর্ণান্ধতা, যাকে ইংরেজিতে বলা হয় “color blind”; আরেকটা ক্ষেত্র হলো রঙ উপলব্ধি কিংবা রঙের চৈতন্য, যাকে বলা হয় “color perception”। আর এই বিষয়গুলো মানুষের জৈবিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত বলে এগুলোকে জৈবিক ও মনস্তাত্ত্বিক নৃবিজ্ঞানের শাখাতেই অধ্যয়ন করা হয়।
তবে মজার ব্যাপার হলো, রঙ নিয়ে গবেষণা করেছেন সাংস্কৃতিক, ভাষাতাত্ত্বিক, ও দৃশ্যগত নৃবিজ্ঞানীরাও। যেমন- সংস্কৃতিভেদে রঙ উপলব্ধির ভিন্নতা নিয়ে কাজ করেছেন সাংস্কৃতিক ও দৃশ্যগত নৃবিজ্ঞানীরা; আবার রঙের নামগত ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে ভাষার সাথে আপেক্ষিক সংস্কৃতির ধারণার যোগসাজস দেখিয়েছেন ভাষাতাত্ত্বিক নৃবিজ্ঞানীরা। এই লেখায় রঙ নিয়ে সাংস্কৃতিক, ভাষাতাত্ত্বি্ক ও দৃশ্যগত নৃবিজ্ঞানীদের সেই ভাবনাগুলোই আলোচনা করা হয়েছে।
IELTS এর কোর্স কিনতে ক্লিক করুন
শুরু করা যাক নৃবিজ্ঞানী ফ্রাঞ্জ বোয়াজের ভাবনা দিয়ে। নৃবিজ্ঞানী ফ্রাঞ্জ বোয়াজ ১৮৮৩ সালে মাঠকর্ম করতে যান এস্কিমো জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে। এস্কিমোরা থাকে শীতপ্রধান পরিবেশে। তুষারপাত তাদের প্রাত্যহিক জীবনের একটি ঘটনা। বোয়াজ লক্ষ্য করেন, এস্কিমোরা বিভিন্ন পর্যায়ের সাদা রঙের তুষারকে বিভিন্ন নামে ডাকে। অর্থাৎ, তাদের রঙের অভিধানে সাদা রঙের জন্য একাধিক নাম রয়েছে। সেখানে পরিবেশগত পর্যায়ের সাথে রঙের নামকরণ, তথা ভাষার এই সম্পর্ক লক্ষ্য করে বোয়াজ “সাংস্কৃতিক আপেক্ষিকতাবাদ” (cultural relativism) তত্ত্বটির উল্লেখ করেন। এই তত্ত্ব মতে, কোন সংস্কৃতিকে শুধুমাত্র সেই নির্দিষ্ট সংস্কৃতির রীতি-নীতি, মূল্যবোধ, বিশ্বাস, আদর্শ, ও ভাষা দিয়েই বুঝতে হবে। অর্থাৎ, কোন সংস্কৃতির মানুষের রঙ এর উপলব্ধি কিংবা রঙ এর চৈতন্যকেও ওই নির্দিষ্ট সংস্কৃতির পরিবেশ ও ভাবাদর্শের আঙ্গিকে বুঝতে হবে।
রঙ নিয়ে ১৯৫৬ সালে আরো একটি মজার গবেষণা করেছিলেন নৃবিজ্ঞানী এরিক লেনেবার্গ ও জন রবার্ট। তারা একটি বোর্ডে ৩২০ প্রকার রঙ সাজিয়েছিলেন রঙগুলোর উজ্জ্বলতার ক্রমান্বয়ে। তারপর তারা আলাদা আলাদাভাবে ইংরেজি ভাষাগোষ্ঠী ও জুনি ভাষাগোষ্ঠির মানুষদের বলেন, যে রঙের প্রকারগুলো একই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত সেগুলোকে ঘিরে বৃত্ত আঁকতে। যেমন বলা হলো যে “সবগুলো লাল রঙকে ঘিরে বৃত্ত আঁকো।” গবেষণা পরীক্ষাটির ফলাফল খতিয়ে দেখা গেল, ইংরেজি ভাষাগোষ্ঠী ও জুনি ভাষাগোষ্ঠির মানুষেরা ভিন্ন ভিন্ন রঙকে ভিন্ন ভিন্ন তালিকায় ফেলে বৃত্তবন্দী করেছে। যেমন– ইংরেজি ভাষাগোষ্ঠির মানুষ হলুদ এবং কমলা রঙ দুটিকে পৃথক বৃত্তে বন্দী করেছে, কিন্তু জুনি ভাষাগোষ্ঠীর মানুষ এই রঙ দুটিকে একই তালিকার অন্তর্ভুক্ত ধরে নিয়ে একই বৃত্তে বন্দী করেছে। এছাড়াও ইংরেজি ভাষাগোষ্ঠীর মানুষেরা বিভিন্ন রঙকে একই তালিকাভুক্ত করে যে বৃত্তগুলো এঁকেছিল, সেই বৃত্তগুলোর আকারে বেশ পার্থক্য ছিল। অন্যদিকে, জুনিদের অঙ্কিত বৃত্তগুলোর সবগুলোই ছিল প্রায় সমআকারের। লেনেবার্গ ও রবার্টের এই গবেষণা ফলাফলটিও সংস্কৃতিভেদে রঙ চৈতন্যের আপেক্ষিকতাকেই নির্দেশ করে।

তবে নৃবিজ্ঞানে রঙের ধারণা সব সময় কেবল আপেক্ষিকতাবাদ তত্ত্ব দিয়েই ব্যাখ্যা করা হয়নি। এর কাঠামোবাদী ব্যাখ্যাও রয়েছে। ১৯৯৭ সালে একটি বই প্রকাশিত হয় Color Categories in Thought and Language নামে। বইটিতে দাবী করা হয়, সংস্কৃতিভেদে ভাষাগত ভিন্নতা সত্ত্বেও মৌলিক রঙের নামকরণ ও শনাক্তকরণে অন্তর্নিহিত মিল লক্ষ্য করা যায়। আর এটি রঙ চৈতন্যের বৈশ্বিক ও অভিন্ন কাঠামোকে নির্দেশ করে। যেমন– প্রায় সকল সংস্কৃতিতেই সাদা-কালো রঙ দুটিকে দ্বৈত-বিপরীত রঙ হিসেবে ধরা হয়। আর দেশ, সমাজ, সংস্কৃতি নির্বিশেষে এই দ্বৈত-বিপরীত ধারণা এবং রঙ উপলব্ধির বৈশ্বিক কাঠামোর ধারণা নৃবিজ্ঞানী লেভি-স্ত্রসের কাঠামোবাদের ধারণাকেই ইঙ্গিত করে।
এছাড়াও এই বইয়ের লেখকদ্বয় বার্লিন এবং কে দাবী করেন, প্রায় সকল ভাষাগোষ্ঠীর মাঝেই সর্বনিম্ন দুটি ও সর্বোচ্চ দশটি মৌলিক রঙ পাওয়া যায়। এখানে মৌলিক রঙ বলতে বুঝানো হয়েছে সেসকল রঙ যেগুলো সাধারণত এক শব্দবিশিষ্ট, বিশেষায়িত নয় (লাল-গোলাপী, নীলাভ-সবুজ ইত্যাদি), কোন বস্তুর নামের সাথে সম্পর্কিত নয় (ছাই রঙ, সোনালী ইত্যাদি), এবং যা নির্দিষ্ট কোন রঙের একটা প্রকারকেই নির্দেশ করে। যেমন– বাংলা ভাষাগোষ্ঠির মানুষের কাছে মৌলিক রঙ হলো লাল, নীল, সবুজ, হলুদ ইত্যাদি। বার্লিন এবং কে এর মতে, যেহেতু সকল সংস্কৃতির সদস্যরাই ২-১০টি মৌলিক রঙ চিহ্নিত করতে পারে, অর্থাৎ রঙ উপলব্ধির দিক থেকে এটিও কাঠামোবাদ তত্ত্বকেই নির্দেশ করে।
নারীবাদী নৃবিজ্ঞানীরা রঙের সাথে পিতৃতান্ত্রিক সমাজের আদর্শ লিঙ্গ ধারণা ও লিঙ্গ-বৈষম্যের সম্পর্কও চিহ্নিত করেছেন। তারা দেখিয়েছেন, কিছু কিছু রঙকে নারী-পুরুষের সাথে জুড়ে দিয়ে লিঙ্গীয় পরিচয় আরোপ করা হয়। যেমন– লাল, গোলাপী, কমলা ইত্যাদি রঙ নারীর সাথে যুক্ত। খেয়াল করলে দেখা যায়, বাচ্চা মেয়েদের পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে গোলাপী রঙকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। অন্যদিকে, নীল, কালো, ধূসর ইত্যাদি রঙকে পুরুষের সাথে জুড়ে দেওয়া হয়। যেমন- বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে কোন যদি গোলাপি রঙের পোশাক পরে তবে তাকে “মেয়েলি” তকমা দেওয়া হয়।
এছাড়াও নারী-পুরুষের লিঙ্গভেদে রঙের নাম ব্যবহারেও ভিন্নতা দেখা যায়। ভাষাতাত্ত্বিক নৃবিজ্ঞানী জেমস স্টেনলো ২০১৮ সালে প্রকাশিত Language, Culture, and Society গ্রন্থে বলেছেন, পুরুষেরা কথা বলার সময় সাধারণত মৌলিক ও নিরপেক্ষ রঙের নাম বেশি ব্যবহার করেন; অন্যদিকে নারীরা বিশেষায়িত রঙের নাম বেশি ব্যবহার করেন। যেমন- মেজেন্টা, নীলাভ সবুজ, সোনালী, ধূসর, ফিকে লাল ইত্যাদি।
ভাষাতাত্ত্বিক দিকটি ছাড়াও রঙ এর দৃষ্টিলব্ধ (visual) দিকে নৃবিজ্ঞানীরা আলোকপাত করেছেন। রঙ এর দৃষ্টিলব্ধ ভাবনা মতে, রঙ এর উপযোগী ব্যবহার সমাজের মানুষের ভাবনা ও কাজকে প্রভাবিত করে। যেমন- বিভিন্ন পণ্যে এবং পণ্যের মোড়কে বাহারি রঙ ব্যবহারের মাধ্যমে ভোক্তার মনোযোগ আকর্ষণ করা যায়। এজন্যই দোকানে গিয়ে শিশুরা সবুজ রঙের পটেটো ক্র্যাকার্স চিপসের প্যাকেট দেখে তা কিনতে বায়না ধরে। তাদের মূল আকর্ষণ ওই রঙিন মোড়কটি, ভেতরের খাদ্যসামগ্রীটি নয়।
রঙের সাথে অনুভূতির সম্পর্ক আবিষ্কার করতে এন্ডার্স স্টেইনভল খুব মজার একটি গবেষণা করেছেন। তার গবেষণাপত্রটির নাম Colors and emotions in English যা ২০০৭ সালে রবার্ট ম্যাকলৌরি সম্পাদিত Anthropology of Color গ্রন্থে যুক্ত হয়েছে। গবেষণাটি সম্পন্ন করার জন্য স্টেইনভল ৫০টি রঙের নাম ও ১৩৫টি অনুভূতির নাম তালিকাভুক্ত করেন। তারপর গবেষণা অংশগ্রহণকারীদের প্রশ্ন করেন, উক্ত ৫০টি রঙের মধ্যে কোন রঙটি কোন অনুভূতিকে যথাযথভাবে প্রকাশ করে; এরপর আবার ঘুরিয়ে প্রশ্ন করেন, উক্ত ১৩৫টি অনুভূতির মধ্যে কোনটি কোন রঙের মাধ্যমে বেশি প্রকাশিত হয়।

এই প্রশ্নের উত্তরে অনেকে বলেছেন, যেহেতু আমরা বলি ভয়ে/চিন্তায় মুখ সাদা/ফ্যাকাশে হয়ে যায়, তবে ভয়/চিন্তা/উদ্বেগের রঙ সাদা/ছাই-রঙা; যেহেতু আমরা বলি হৃদয় লাল রক্তযুক্ত, অর্থাৎ ভালোবাসার রঙ লাল/গোলাপী; আমরা বলি রাগে মুখ রক্তবর্ণ, তবে রাগের বহিঃপ্রকাশও ঘটে লাল রঙে। এভাবে অংশগ্রহণকারীদের মতামত নিয়ে গবেষণাটির ফলাফল আনুপাতিক হারে প্রকাশিত হয়। এই গবেষণাটি থেকে মানুষ কিভাবে অনুভূতিকেও রঙ দ্বারা উপলব্ধি করে সেই বিষয়টিই উপস্থাপিত হয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, নৃবিজ্ঞানে রঙ এর ধারণা ধীরে ধীরে গবেষণার একটি অন্যতম ক্ষেত্র হয়ে উঠছে। সম্প্রতি নৃবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা (business anthropology, linguistic anthropology, cognitive anthropology, visual anthropology) মানুষের রঙ উপলব্ধি (color perception) এর প্রক্রিয়ার দিকে মনযোগ দিচ্ছে। রঙ নিয়ে নৃবিজ্ঞানের আরো কিছু মজার মজার ভাবনা ও কাজ জানতে যারা আগ্রহী তারা Anthropology of Color (edited by Robert E. MacLaury, Galina V. Paramei, & Don Dedrick) বইটি পড়তে পারেন।
গুগল স্কলার থেকে বইটির ডাউনলোড লিংক এখানে ।
References:
- https://www.thejuggernaut.com/why-the-west-is-afraid-of-color?fbclid=IwAR1BVUyxAfKCbfSdiBevUcqnnTbrh_ZHaMD0lAvT9zwQzEFj61u2tREjzmg
- https://www.tumblr.com/macleod/691054353059053568/color-has-been-disappearing-from-the-world
- Berlin & Kay, (1997). Color Categories in Thought and Language
- Stanlaw et al., (2018), Language, Culture, and Society.
- Steinvall, A., (2007), Anthropology of Color.
