নৃবিজ্ঞানের ইতিহাস ও উপশাখাসমূহ


[ ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ‘HISTORY AND BRANCHES OF ANTHROPOLOGY’ লেখাটি নৃবিজ্ঞানের প্রাথমিক ধারণাগুলোকে দারুণভাবে তুলে ধরেছে। এনথ্রোসার্কেলের জন্য এই লেখাটি অনুবাদ করেছেন আবদুল্লাহ হেল বুবুন]

নৃবিজ্ঞান মানব সমাজ ও সংস্কৃতির উৎপত্তি এবং বিকাশ সম্পর্কিত অধ্যয়ন। মূলত, সংস্কৃতি দ্বারা মানুষের অভিজ্ঞতালদ্ধ অর্জিত আচরণসমূহকে বোঝায়। যেমন ভাষা, বিশ্বাস, সামাজিক কাঠামো, প্রতিষ্ঠান ও ব্যবহার্য বস্তুগত উপকরণ ইত্যাদি সকল বিষয়ই সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত। নৃবিজ্ঞানীরা বিভিন্ন ধরণের পদ্ধতিগত কৌশলের সাহায্যে অতীত ও বর্তমান কালের মানব সমাজকে অধ্যয়ন করে থাকেন, এবং এর মধ্য দিয়ে তারা সমগ্র ইতিহাস জুড়ে বিভিন্ন মানবগোষ্ঠী যেভাবে জীবন যাপন করেছে, তা অন্বেষণ ও বর্ণনা করে।

যথাসম্ভব একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ উপায়ে নিজেদের গবেষণার বিষয়বস্তুকে (কোন নির্দিষ্ট মানবগোষ্ঠী/সমাজ) অধ্যয়ন ও উপস্থাপন করা নৃবিজ্ঞানীদের অভীষ্ট লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনে তারা বিষয়বস্তুর নিজস্ব প্রকৃতিগত পরিবেশে তাদেরকে পর্যবেক্ষণ করে থাকে। পরবর্তী ধাপে নৃবিজ্ঞানীরা উক্ত বিষয়বস্তুর সাথে পারিপার্শ্বিক বিবিধ বিষয়ের মিথস্ক্রিয়া এবং তাদের নিজস্ব প্রথাসমহূকে বর্ণনা করে থাকে, যেটিকে কেতাবি ভাষায় বলা হয় এথনোগ্রাফি। যেসব গোষ্ঠীর ওপর গবেষণা করা হয় তাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের মাধ্যমে নৃবিজ্ঞানীরা স্থানীয় প্রতিষ্ঠান, সংস্কৃতি ও রীতি-নীতির উদ্দেশ্যগুলো আরো ভালোভাবে অনুধাবন ও ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হয়। এই প্রক্রিয়াটিকে অংশগ্রহণমূলক পর্যবেক্ষন বলে।

যেহেতু নৃবিজ্ঞানীরা নিজেদের থেকে ভিন্ন সমাজ ও সংস্কৃতি অধ্যয়ন করে, তাই নিজেদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য তাদেরকে নিজস্ব ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণকে পুনঃমূল্যায়ন করতে হবে। নৃবিজ্ঞানে এই ধরণের পক্ষপাতিত্বকে বলা হয় এথনোসেন্ট্রিজম (স্বজাত্যকেন্দ্রিকতা) অর্থ্যাৎ নিজের সংস্কৃতিকে শ্রেষ্ঠ বিবেচনা করে বা স্ট্যান্ডার্ড ধরে অন্যদের বিচার করা তথা অধস্তন মনে করা।

এই সব পদক্ষেপ সামগ্রিকভাবে একজন নৃবিজ্ঞানীকে বিভিন্ন মানবগোষ্ঠীকে ঐ সকল মানবগোষ্ঠীর স্বীয় মানদন্ডে বর্ণনা করতে সহায়তা করে।

নৃবিজ্ঞানের উপশাখা

নৃবিজ্ঞান পাঠের অন্তর্ভুক্ত বিচিত্র বিষয়াবলীকে সাধারণত চারটি উপশাখায় শ্রেণিভুক্ত করা হয়। উপশাখা হলো কোন বৃহত্তর জ্ঞানকান্ড বা ডিসিপ্লিনের অধীনে অধ্যয়নের একটি বিশেষায়িত ক্ষেত্র। নৃবিজ্ঞানীরা সামাজিক অথবা সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান, ভাষাতাত্ত্বিক নৃবিজ্ঞান,জৈবিক নৃবিজ্ঞান এবং প্রত্নতত্ত্ব ইত্যাদি উপশাখায় বিশেষায়িত জ্ঞান অর্জন করে। এই উপশাখাগুলো একে অপরের সাথে আন্তসম্পর্কিত এবং বিশেষজ্ঞদের দ্বারা সর্বদা স্বতন্ত্র‍ হিসেবে চিহ্নিত না হলেও, সাধারণত প্রত্যেক উপশাখাই পৃথক কৌশল ও পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে।

সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান

সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান (যা সামাজিক নৃবিজ্ঞান নামেও পরিচিত) হলো ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে বিভিন্ন মানবগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতালব্ধ (learned behavior) আচরণের অধ্যয়ন। সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানীরা এথনোগ্রাফিকে তাদের গবেষণাক্রমের বুনিয়াদ হিসেবে গ্রহণ করেন। এথনোগ্রাফি হলো একটি গবেষণা পদ্ধতি যা মাঠকর্ম ও অংশগ্রহণমূলক পর্যবেক্ষণ ব্যবহার করে বিভিন্ন সংস্কৃতি ও প্রথা অধ্যয়ন করে থাকে।

এলিজাবেথ কাপু’ওয়াইলাইনি লিন্ডসে নৃবিজ্ঞানের ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ফেলো। ডক্টোরাল শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি মানচিত্র ও যন্ত্র ব্যবহার না করা মাইক্রোনেশীয় নাবিকদের বিরল ও প্রায় হারিয়ে যাওয়া পালু প্রথা লিপিবদ্ধ করেছেন। তার অধ্যয়নকৃত প্রথাগুলোর মধ্যে রয়েছে সাতাওয়ালিজদের প্রার্থনাকার্য (chant) ও বিভিন্ন চর্চাসমূহ। সাতাওয়ালিজরা একটি ছোট সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী যারা ফেডারেটেড স্টেটস অব মাইক্রোনেশিয়ার একটি প্রবাল দ্বীপে বসবাস করে।

সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানীদের মধ্যে যারা বিভিন্ন সংস্কৃতি নিয়ে তুলনামূলক বিচার-বিশ্লেষণ করে, তারা এথনোলজিস্ট নামে পরিচিত। এথনোলজিস্টরা ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতিতে একটি সুনির্দিষ্ট প্রথা যে বিচিত্র উপায়ে বিকশিত হয়, তা পর্যবেক্ষণ করে এবং ব্যাখ্যা করে কেন এই পার্থক্যগুলো বিদ্যমান।

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের ‘এক্সপ্লোরার ইন রেসিডেন্স’ ওয়েড ডেভিস একজন এথনোবোটানিস্ট। আদিবাসী গোষ্ঠীগুলো তাদের দৈনন্দিন জীবনে যেসব গাছপালা ব্যবহার করে তা সংগ্রহ ও অধ্যয়ন করতে তিনি তিন বছরেরও অধিক সময় লাতিন আমেরিকায় কাটিয়েছেন। তার গবেষণাকর্মে, এই সকল গোষ্ঠীগুলো যেসব ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে গাছপালাকে উপলব্ধি করে এবং খাবার, ঔষধ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এদেরকে ব্যবহার করে, এসব বিষয়াদির তুলনা করেন।

ভাষাতাত্ত্বিক নৃবিজ্ঞান

ভাষা কীভাবে সামাজিক জীবনকে প্রভাবিত করে তারই অধ্যয়ন হলো ভাষাতাত্ত্বিক নৃবিজ্ঞান। ভাষাতাত্ত্বিক নৃবিজ্ঞানীদের মতে, ভাষা মানুষকে চিন্তা ও কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় বুদ্ধিবৃত্তিক উপকরণ যোগান দিয়ে থাকে। ভাষা যেভাবে বিভিন্ন সমাজ ও তাদের সামাজিক নেটওয়ার্ক, সাংস্কৃতিক বিশ্বাস, নিজেদের ও নিজস্ব পরিবেশ সম্পর্কে বোঝাপড়াকে রূপান্তরিত করে, তা ভাষাতাত্ত্বিক নৃবিজ্ঞানীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। 

মানুষ কিভাবে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উদ্দেশ্যে ভাষা ব্যবহার করে তা বুঝতে ভাষাতাত্ত্বিক নৃবিজ্ঞানীরা মানুষ তার দৈনন্দিন সামাজিক জীবনে যা বলে তা খুব ঘনিষ্ঠরূপে লিপিবদ্ধ করেন। এই লিপিবদ্ধতা নির্ভর করে অংশগ্রহণমূলক পর্যবেক্ষণ এবং অডিওভিজুয়াল রেকর্ডিং ও অংশগ্রহণকারীদের সাথে সাক্ষাতকারসহ অন্যান্য মেথডের উপর।

কগনিটিভ সাইন্টিস্ট লিরা বোরোডিটস্কি ‘পরমপুরাও’ নামের একটি অস্ট্রেলীয় নৃগোষ্ঠীর যোগাযোগের বিভিন্ন ধরণ নিয়ে কাজ করেন। লিরা দেখতে পান যে, প্রায় সকল দৈনন্দিন কার্যক্রম ও কথোপকথন কার্ডিনাল ডিরেকশন (মৌলিক দিক—পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর, দক্ষিণ) প্রকরণের মাঝে অবস্থিত। উদাহরণস্বরূপ, পরমপুরাওদের মধ্যে কাউকে অভিবাদনের সময় যদি একজন ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করে, “তুমি কোথায় যাচ্ছো?”, তার প্রত্যুত্তর আসতে পারে এমন, “দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে অনেক দূরের পথে।” একজন ব্যক্তি অন্য একজনকে এভাবে সতর্ক করে দেয়, “তোমার উত্তর-পশ্চিম দিকের পায়ের কাছে একটি সাপ রয়েছে।” এই ভাষা ভূপ্রকৃতিতে পরমপুরাওয়ের অধিবাসীদের একেবারে অভ্রান্ত উপায়ে নিজেদের চিহ্নিত ও ভ্রমণ করতে সক্ষম করে তোলে, কিন্তু যাদের মৌলিক দিকগুলো সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান নেই তাদের জন্য যোগাযোগ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠে।

ভাষাতাত্ত্বিক নৃবিজ্ঞানীরা ঐ সব দেশজ ভাষা নথিবদ্ধ করতে পারে যা লুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণার মাধ্যমে হুমকির মুখে থাকা ভাষাগুলোর লেখ্য, দৃষ্টিলব্ধ ও কথ্য রূপ সংগ্রহের মাধ্যমে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের দি এন্ডিউরিং ভয়েস (Enduring Voice) প্রজেক্ট বিভিন্ন ভাষার বিলুপ্তি প্রতিরোধ করতে চায়। এই প্রজেক্ট বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নিজেদের ভাষাগুলোকে পুনরুজ্জীবীত ও বহাল রাখার প্রচেষ্টায়ও সাহায্য করে। দি এন্ডিউরিং ভয়েস বলিভিয়ার চিপায়া ভাষা, প্যারাগুয়ের ইশির চামাকোকো ভাষা এবং পাপুয়া নিউগিনির মাতুগার পানুয়া ভাষাসহ আরো অনেক ভাষা নথিবদ্ধ করেছে।

জৈবিক নৃবিজ্ঞান

জৈবিক নৃবিজ্ঞান হলো মানুষ এবং তার জীবন্ত ও জীবাশ্ম স্বজনদের বিবর্তনের অধ্যয়ন। জৈবিক নৃবিজ্ঞান মানব বিবর্তনকে মানব সংস্কৃতি ও আচরণের কন্টেক্সটে স্থাপন করে। যার অর্থ, জৈবিক নৃবিজ্ঞানীরা দেহাবশেষ ও জেনেটিক গঠনপ্রণালীতে পরিবর্তনের মতো শারীরিক অগ্রগতি ইতিহাসজুড়ে কিভাবে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যবহারের সাথে যুক্ত তা নিয়ে কাজ করেন। মানুষ কীভাবে পূর্বতন জৈবিক-আকার থেকে বিবর্তিত হয়েছে, তা বোঝার জন্য কিছু জৈবিক নৃবিজ্ঞানী বানর ও নরবানরদের (apes) মতো প্রাইমেট অধ্যয়ন করেন। প্রাইমেটরা আমাদের সবচেয়ে কাছের জীবন্ত স্বজন হিসেবে বিবেচিত হয়। মানুষ এবং এই “গ্রেট এইপস” -দের মধ্যকার সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য বিশ্লেষণ জৈবিক নৃবিজ্ঞানীদের মানব বিবর্তন অনুধাবন করতে সাহায্য করে।

প্রাইমেটোলজিস্ট জেন গুডঅল ৪০ বছরের বেশী সময় ধরে তাঞ্জানিয়ায় বন্য শিম্পাঞ্জি অধ্যয়ন করেন। প্রাইমেটদের সাথে সুদীর্ঘ দিন বসবাস করার মাধ্যমে তিনি মানুষ ও শিম্পাঞ্জিদের মধ্যে কিছু সাদৃশ্য খুঁজে পেয়েছেন।

শিম্পাঞ্জিরাও লাঠির মতো মৌলিক যন্ত্র বা উপকরণ ব্যবহার করে– এটি ছিল গুডঅলের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদঘাটন। যন্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন মানব বিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়। জৈবিক নৃবিজ্ঞানীরা দীর্ঘতর অঙ্গুষ্ঠ ও অধিকতর শক্তিশালী আকড়ে ধরার ক্ষমতা বিশিষ্ট হাতের বিকাশের সাথে আমাদের প্রাচীন পূর্বপুরুষদের যন্ত্র তৈরির সক্ষমতার সম্পর্ক নিয়ে কাজ করেছেন। 

কিছু জৈবিক নৃবিজ্ঞানী বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন প্রাকৃতিক পরিবেশে মানুষ কিভাবে অভিযোজন করেছে তা জানার জন্য কঙ্কালের ধ্বংসাবশেষ নিয়ে গবেষণা করেন। নৃবিজ্ঞানের এই বিশেষ বৃত্তি প্যালিওন্টোলজি বা প্যালিওএন্থ্রোপোলজি নামে পরিচিত।

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এক্সপ্লোরার জিরেসিনেয় আলেমসেগদ এথিওপিয়ার ‘বুসিদিমা-দিকিকা’ নামক একটি প্রত্নতাত্ত্বিক সাইটে হোমিনিড ফসিল নিয়ে গবেষণা করেন। তিন থেকে চার মিলিয়ন বছর আগে বিচিত্র হোমিনিড প্রজাতির অস্তিত্ব ছিল – এটি প্রমাণ করা তার গবেষণাকর্মের মূল লক্ষ্য। কেন কিছু হোমিনিড প্রজাতি হাজার বছর বেঁচে থাকতে সক্ষম হয়েছে কিন্তু অন্যরা পারেনি, তা প্যালিওএন্থ্রোপোলজিস্টরা অধ্যয়ন করে।

জীবন্ত মানুষের জৈবিক বৈশিষ্ট্য কিভাবে তার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রথার সাথে জড়িত, তা জৈবিক নৃবিজ্ঞান অধ্যয়নের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে। জু/হোয়েন্সি নামের নামিবিয়ার একটি শিকারি-সংগ্রহকারী সমাজ ঠান্ডা আবহাওয়া ও উচ্চ ক্যালরি সমৃদ্ধ খাবার সংকটের প্রতিক্রিয়ায় অভিনব শারীরিক বৈশিষ্ট্য বিকশিত করেছে। চর্বির একটি পুরু স্তর বুক ও তলপেটের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোকে নিরাপদ রাখে এবং রাতে শিরা সঙ্কুচিত হয়। যার ফলে দেহের উষ্ণতা হানি কম ঘটে এবং শারিরীক তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়।

প্রত্নতত্ত্ব

বস্তুগত নিদর্শন ব্যবহার করে মানব অতীত অধ্যয়নের নাম প্রত্নতত্ত্ব। এই নিদর্শনগুলো হতে পারে মানুষের দ্বারা নির্মিত, রূপান্তরিত অথবা ব্যবহৃত। ইতিহাস জুড়ে বিভিন্ন জনগোষ্ঠী ও সভ্যতার অভিজ্ঞতা ও কর্মকান্ডকে ব্যাখ্যার জন্য প্রত্নতাত্ত্বিকরা সতর্কতার সাথে এসব নিদর্শন অনুসন্ধান ও এদের সাথে জড়িত ইতিহাস উম্মোচন করেন।

প্রত্নতাত্ত্বিকরা সাধারণত ইতিহাসের একটি নির্দিষ্ট সময়কাল নিয়ে গবেষণা করেন। তারা প্রাগৈতিহাসিক সংস্কৃতিগুলো (যেসব সংস্কৃতি লিখন প্রণালী আবিষ্কারের পূর্বে অস্তিত্বশীল ছিল) অধ্যয়ন করতে পারে। এইসকল গবেষণা অনেক গুরুত্বপূর্ণ কারণ প্রাগৈতিহাসিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার পুনঃনির্মাণ শুধু তাদের রেখে যাওয়া ব্যবহার্য জিনিসপত্রের মাধ্যমেই করা সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, দক্ষিণপশ্চিম যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্নতাত্ত্বিক সাইটগুলোতে পাওয়া কাকাতুয়া ডিমের খোসা, কঙ্কালের ধ্বংসাবশেষ ও মৃৎপাত্রের চিত্রাবলী থেকে ঐ অঞ্চলের প্রাগৈতিহাসিক জনগোষ্ঠীর জীবনে বৈদেশিক বাণিজ্য পণ্য ও আরাধনার বস্তু হিসেবে কাকাতুয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সম্পর্কে জানা যায়। 

কিছু প্রত্নতাত্ত্বিকরা কোন নির্দিষ্ট সংস্কৃতি অথবা সাংস্কৃতিক জীবনের কোনো একটি দিক নিয়ে আলোচনা করেন। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের ইমার্জিং এক্সপ্লোরার কন্সটাঞ্জা সিরুতি একজন প্রত্নতাত্ত্বিক যে ইনকা সাম্রাজ্যের বিভিন্ন নিদর্শন ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে কাজ করেন। প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণের পাশাপাশি সিরুতি ঐতিহাসিক গ্রন্থ ও ঐতিহ্যবাহী আন্দিয়ান বিশ্বাস বিশ্লেষণ করেন। এই সকল তথ্য তাকে প্রত্নতাত্ত্বিক সাইটগুলোর আকৃতি, প্রত্যেক নিদর্শনের প্রতীকী অর্থ এবং যেভাবে উৎসব অনুষ্ঠিত হতো, তা পুনঃনির্মাণে সাহায্য করে।

নৃবিজ্ঞানের ইতিহাস

শুরু থেকেই নৃবিজ্ঞান অধ্যয়নে অন্যান্য জনগোষ্ঠী ও সংস্কৃতি সম্পর্কে আমাদের বিবর্তিত সম্পর্ক প্রতিফলিত হয়েছে। এই সম্পর্কগুলো ইতিহাসের বিভিন্ন বিন্দুতে উপস্থিত রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক শক্তিগুলোর সাথে ঘনিষ্ঠ ভাবে জড়িত।

ইতিহাস অধ্যয়ন ছিল প্রাচীন গ্রীক ও রোমান সাম্রাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, যা একটি ন্যায়পরায়ণ সমাজ তৈরিতে যুক্তি ও অনুসন্ধানের উপর জোরারোপ  করতো। গ্রীক ঐতিহাসিক হেরোডেটাস খ্রীস্টপূর্ব পশ্চম শতকে লিবিয়া, ইউক্রেন, মিশর ও সিরিয়ার মতো দূরবর্তী অঞ্চলে ভ্রমণ করেছেন। গ্রীক ও পারসিয়ানদের মধ্যকার দ্বন্দ্বের উৎস সম্পর্কে জানতে তিনি এসব স্থানে ভ্রমণ করেন। ঐতিহাসিক অনুসন্ধানের পাশাপাশি হেরোডেটাস তার পরিদর্শিত স্থানগুলোর প্রথা ও সামাজিক কাঠামো বর্ণনা করেন। তার এই বিশদ পর্যবেক্ষণ পৃথিবীতে এথনোগ্রাফির প্রথম চর্চা হিসেবে পরিচিত।

হেরোডেটাস

বিচিত্র সমাজ ও সংস্কৃতিতে আগ্রহ বৃদ্ধিতে বাণিজ্য পথের পত্তন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। উদাহরণস্বরূপ, কূটনীতিজ্ঞ ঝাং কিয়ান চীন ও পার্শবর্তী সেন্ট্রাল এশিয়ান জনসমাজগুলোর মাঝে বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনা করেছিলেন। ঝাঙের কূটনীতি ও সেন্ট্রাল এশিয়া নিয়ে তার আগ্রহ সিল্ক রোড নির্মাণকে তরান্বিত করে, যা ছিল বাণিজ্য, যোগাযোগ ও বিনিময়ের জন্য ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সিল্ক রোড হাজার বছর ধরে এশিয়া, পূর্ব আফ্রিকা ও পূর্ব ইউরোপের মধ্যে যোগাযোগের একটি অপরিহার্য মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।

নতুন বাণিজ্য অংশীদারিত্ব তৈরিতে সারা পৃথিবী ভ্রমণ করা পণ্ডিত ও অভিযাত্রীরা বিভিন্ন সংস্কৃতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রাখে। ভেনেশীয় বণিক মার্কো পোলো সেন্ট্রাল এশিয়া ও চীনের প্রথম বিশদ বিবরণ লিখেছেন, যে স্থানগুলোতে তিনি ২৪ বছর কাটিয়েছেন। পোলোর লেখনী এশিয়া, এর অধিবাসী এবং রীতি-নীতি সম্পর্কে ইউরোপীয় বোঝাপড়া বহুগুনে বৃদ্ধি করেছিল।

মার্কো পোলোর চেয়ে আরো ব্যাপকভাবে ভ্রমণ করেছেন ইবনে বতুতা। বতুতা ছিলেন একজন মরোক্কান পণ্ডিত যিনি নিয়মিতভাবে উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য ভ্রমণ করতেন। রিহালা নামক স্মৃতিকথায় পূর্বে ভারত ও চীন থেকে শুরু করে এবং দক্ষিণে কেনিয়া পর্যন্ত তার গৃহীত অভিযানগুলো বর্ণিত হয়েছে।

অনেক পন্ডিত মনে করেন, একটি শাস্ত্র হিসেবে আধুনিক নৃবিজ্ঞান আলোকায়নের যুগে জন্ম লাভ করে। আলোকায়ন হলো অষ্টাদশ শতকের একটি ইউরোপীয় সাংস্কৃতিক আন্দোলন, যা সমাজ ও জ্ঞানের অগ্রগতির জন্য যুক্তির ক্ষমতার উপর জোর দিয়েছিল। এই আন্দোলনের পথিকৃৎরা মানব আচরণ ও সমাজকে এমন একটি বিষয় হিসেবে বোঝার চেষ্টা করেছিলেন, যা পূর্ব নির্ধারিত নিয়ম নীতি মেনে চলে। জর্জেস বুফোনের মতো  প্রাকৃতিক ঐতিহাসিকদের (ন্যাচারাল হিস্ট্রিয়ান) কাজ দ্বারা এই দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাপকভাবে প্রভাবিত ছিল। বুফোন মানব জাতিকে অধ্যয়ন করেছে একটি প্রাণীবৈজ্ঞানিক প্রজাতি হিসেবে– তার কাছে হোমো স্যাপিয়েনস প্রজাতি কেবলমাত্র ফ্লোরা ও ফনার অংশ।

ইউরোপীয়রা নব্য উপনিবেশায়িত অঞ্চল ও তাদের সংস্পর্শে আসা আদিবাসী সংস্কৃতির বাসিন্দাদের তথ্য লিপিবদ্ধকরণে প্রাকৃতিক ইতিহাসের নিয়ম নীতি গুলো প্রয়োগ করেছিল। ঔপনিবেশিক বুদ্ধিজীবীরা এই সংস্কৃতি গুলোকে অধ্যয়ন করেছে ‘হিউম্যান প্রিমিটিভস’ হিসেবে, যা তাদের মতে, ইউরোপের অগ্রসর সমাজ থেকে হীনতর (ইনফিরিয়র)। অ-ইউরোপীয় ভূখন্ড এবং জনগোষ্ঠীর উপর ইউরোপীয় যুক্তি ও নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন আছে, এই বয়ানের মধ্য দিয়ে তাদের কাজে ঔপনিবেশিক এজেন্ডা প্রতিফলিত হয়েছে। বর্তমানে এই গবেষণা কর্মগুলো বর্ণবাদী হিসেবে স্বীকৃত।

ঔপনিবেশিক চিন্তাধারা ঊনবিংশ শতকের নৃবিজ্ঞানীদের গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। তারা তাদের গবেষণা কর্মে দুটি প্রধান তত্ত্ব অনুসরণ করতোঃ বিবর্তনবাদ (Evolutionism) ও ব্যাপনবাদ (Diffusionism)। বিবর্তনবাদীরা মনে করতো, পৃথিবীর সকল সমাজ একটি পূর্ব নির্ধারিত এবং সার্বজনীন পথে ধাপে ধাপে বিকশিত হয়। বিবর্তনবাদী নৃবিজ্ঞানীরা সংস্কৃতিকে এই অনুক্রমের মধ্যে সাজান। তারা অ-ইউরোপীয় উপনিবেশগুলোর সংস্কৃতিকে বিকাশের অরণ্যচারী (Savagery) পর্যায়ে আছে বলে চিহ্নিত করেছিলেন এবং শুধু ইউরোপীয় শক্তিদেরই সভ্যদের (Civilized) ধাপে স্থান দিয়েছিলেন। বিবর্তনবাদীরা বিশ্বাস করতেন, সব সমাজই সভ্য ধাপে পৌঁছাবে, যদি তারা ইউরোপীয়দের বৈশিষ্ট্যগুলো গ্রহণ করে। বিপরীতক্রমে, তারা ‘অসভ্য’ সমাজ অধ্যয়ন করেছিল ইউরোপীয় সভ্যতার আদিম অতীত সম্পর্কে জানার জন্য।

ব্যাপনবাদী তাত্ত্বিকরা বিশ্বাস করতেন, সকল সমাজ কিছু ‘সংস্কৃতি কেন্দ্র’ থেকে উদ্ভূত হয়েছে এবং এই কেন্দ্রগুলো থেকেই বিভিন্ন প্রথা ও রীতিনীতি প্রসার লাভ করে। একটি সমাজের সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যগুলো বিশ্লেষণ ও তুলনা করে করে ব্যাপনবাদীরা ওই সমাজ কোন সংস্কৃতি কেন্দ্র থেকে উদ্ভূত হয়েছে তা বলে দিতে পারতো। ব্রিটিশ নৃবিজ্ঞানী ডব্লিউ জে পেরি বিশ্বাস করতেন, বিশ্ব সংস্কৃতির সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান (কৃষি, গৃহপালিত প্রাণী, মৃৎশিল্প, এমনকি সভ্যতা) একটি একক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র থেকে বিকশিত হয়েছে, সেটি হলো মিশর।

উভয় বিবর্তনবাদী ও ব্যাপনবাদী ধারার তাত্ত্বিকরা মনে করতেন, সকল সমাজকেই একে অপরের সাথে তুলনা করা যায়। তারা এটাও বিশ্বাস করতেন যে কিছু সংস্কৃতি (অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের নিজেদের) অন্য সংস্কৃতি থেকে শ্রেষ্ঠতর।

এই তত্ত্ব গুলো বিশ শতকের নৃবিজ্ঞানীদের কঠোর সমালোচনার শিকার হয়, যারা কোন নির্দিষ্ট সংস্কৃতিকে ইউরোপীয় ঐতিহ্যের সাথে তুলনা করে নয়, বরং ঐ সংস্কৃতির স্বীয় মানদন্ডে উপলব্ধি করতে চেয়েছিল। সাংস্কৃতিক আপেক্ষিকতাবাদের প্রবর্তক জার্মান-আমেরিকান নৃবিজ্ঞানী ফ্রাঞ্জ বোয়াস যুক্তি দিয়েছিলেন যে, একজন ব্যক্তির বিশ্বাস ও আচরণ শুধুমাত্র ঐ ব্যক্তির নিজস্ব সংস্কৃতির পটভূমিতে উপলব্ধি করা যায়।

ভিন্ন ভিন্ন সমাজকে তাদের সাংস্কৃতিক পটভূমিতে পাঠ করতে নৃবিজ্ঞানীরা এইসব সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাস করতে শুরু করেন। কোন নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনকে আরো পরিপূর্ণ রূপে বুঝতে ও বর্ণনা করতে তারা অংশগ্রহণমূলক পর্যবেক্ষণ ও এথনোগ্রাফিকে টুলস হিসেবে ব্যবহার করেন। বিভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে তুলনা এবং মানব আচরণ সম্পর্কে সার্বজনীন বিধান অনুসন্ধান থেকে তাদের মনোযোগ সরিয়ে আধুনিক নৃবিজ্ঞানীরা কোন নির্দিষ্ট সময় এবং স্থানে সমাজ ও সংস্কৃতিকে বর্ণনা করেন।

কিছু নৃবিজ্ঞানী উন্নয়নশীল বিশ্বের সংস্কৃতিতে এই শাস্ত্রের অতিরিক্ত সক্রিয়তার সমালোচনা করতে শুরু করেন। এই নৃবিজ্ঞানীরা তাদের কাজের কেন্দ্রবিন্দু করে তোলেন উন্নত বিশ্বের দৈনন্দিন জীবনের রীতি-নীতি বিশ্লেষণকে। যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয় হায়ারার্কি ও হাইস্কুল স্পোর্টস টিম থেকে শুরু করে প্রবীন নিবাস পর্যন্ত বিচিত্র মানব গোষ্ঠীতে এথনোগ্রাফিক কাজ পরিচালিত হয়েছে। 

সাম্প্রতিক নৃবিজ্ঞান

নতুন নতুন প্রযুক্তি ও অধ্যয়নের উদীয়মান ক্ষেত্রগুলো বর্তমানকালের নৃবিজ্ঞানীদের বিভিন্ন জনগোষ্ঠী ও সংস্কৃতি সম্পর্কে আরো জটিল তথ্য উম্মোচন এবং বিশ্লেষণে সহায়তা করে। প্রত্নতাত্ত্বিক ও জৈবিক নৃবিজ্ঞানীরা মানব ধ্বংসাবশেষের মধ্যকার হাড় ও নরম টিস্যুর ক্রস-সেকসনাল ছবি তৈরির জন্য সিটি স্ক্যানার ব্যবহার করে, যা বিভিন্ন এঙ্গেল থেকে গ্রহণ করা কয়েকটি এক্স-রে দৃশ্যকে একত্রিত করে।

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের প্রাক্তন রেসিডেন্স-ইন-এক্সপ্লোরার জাহি হাওয়াস প্রাচীন মিশরের রোগ, স্বাস্থ্য ও জীবন আয়ুর ধরণ সম্পর্কে জানার জন্য প্রাচীন মিশরীয় মমির উপর সিটি স্ক্যান ব্যবহার করেছেন। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ৫০ বছর বয়স্ক স্থুলাকার নারীর একটি মমি আবিষ্কৃত হয়েছে, যিনি দন্ত ক্ষয় রোগে ভুগতেন। হাওয়াস ও তার দল এটাকে চিহ্নিত করেছে মিশরীয় ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হাটসেপ্সুটের মমি হিসেবে। হাটসেপ্সুটের নামাঙ্কিত একটি রিচুয়াল বক্সে তার হারিয়ে যাওয়া একটি দাত খুঁজে পেয়ে হাওয়াস ও তার দল এই সিদ্ধান্তে পৌছেছে। জেনেটিক্স নৃবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করে। যেভাবে শারীরিক বৈশিষ্ট্য এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে প্রবাহিত হয়, তারই অধ্যয়ন জেনেটিক্স। জেনেটিক বিশেষজ্ঞরা ডিএনএ অধ্যয়ন করে। ডিএনএ একটি রাসয়নিক উপাদান যা সকল জীবন্ত প্রাণী ও উদ্ভিদের সকল জীবন্ত কোষে বিদ্যমান। ডিএনএ গবেষণা ধারণা করে, সব মানুষ একই পূর্বপুরুষ থেকে আগত, যারা প্রায় ষাট হাজার বছর পূর্বে মধ্য আফ্রিকা থেকে পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছিল।

কীভাবে মানুষ নতুন সামাজিক যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক পরিচিতি তৈরি করে তা উপলব্ধি করতে নৃবিজ্ঞানীরা তাদের দক্ষতা ও উপকরণ (টুলস) ব্যবহার করে। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ইমার্জিং এক্সপ্লোরার মাইকেল ওয়েসচ নতুন মিডিয়া প্লাটফর্ম এবং ফেসবুক ও ইউটিউবের মতো ডিজিটাল প্রযুক্তি যেভাবে মানুষ একে অপরের সাথে যোগাযোগ ও সম্পর্ক স্থাপন করে তা পরিবর্তন করছে, তা নিয়ে গবেষণা করছে। একজন ‘ডিজিটাল এথনোগ্রাফার’ হিসেবে নয়া মিডিয়ার সাথে আমাদের সম্পর্ক নিয়ে ওয়েসচের গবেষণা থেকে প্রাপ্ত সিদ্ধান্ত বেশীরভাগ সময়ই উপস্থাপন করা হয় ভিডিও অথবা ইন্টারেক্টিভ ওয়েব এক্সপেরিয়েন্সের মাধ্যমে, যা হাজার হাজার অংশগ্রহণমূলক পর্যবেক্ষককে অন্তর্ভুক্ত করে। ওয়েসচ ওইসব নৃবিজ্ঞানীদের একজন যারা আমরা যেভাবে ডিজিটাল পরিবেশ ও নৃবিজ্ঞান গবেষণায় আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে উপলব্ধি ও পরিচালিত করি, তা সম্প্রসারিত করছে।

মূল লেখার লিংক

Related Articles

বই রিভিউঃ নৃবিজ্ঞান পাঠপরিচয়

বিখ্যাত নৃবিজ্ঞানী মার্শাল শাহলিন্স শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বক্তৃতায় বলেছিলেন, ‘নৃবিজ্ঞান বিষয়টি বেশ আলাদা। একজন পদার্থবিজ্ঞানী যদি একটি টেবিল নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন,...

সিনেমায় ফিরে আসে দাসত্ব

১৯৬০-৭০ এর ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটার রোহান ভোলালাল কানহাইকে নিয়ে কবিতা লেখেন ক্যারিবীয় কবি ডেভিড ডেবিডিন। ‘সাদা মানুষের অস্থির...

নৃবিজ্ঞানের ইতিহাস ও উপশাখাসমূহ

নৃবিজ্ঞান মানব সমাজ ও সংস্কৃতির উৎপত্তি এবং বিকাশ সম্পর্কিত অধ্যয়ন। মূলত, সংস্কৃতি দ্বারা মানুষের...
- Advertisement -

Latest Articles

বই রিভিউঃ নৃবিজ্ঞান পাঠপরিচয়

বিখ্যাত নৃবিজ্ঞানী মার্শাল শাহলিন্স শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বক্তৃতায় বলেছিলেন, ‘নৃবিজ্ঞান বিষয়টি বেশ আলাদা। একজন পদার্থবিজ্ঞানী যদি একটি টেবিল নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন,...

সিনেমায় ফিরে আসে দাসত্ব

১৯৬০-৭০ এর ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটার রোহান ভোলালাল কানহাইকে নিয়ে কবিতা লেখেন ক্যারিবীয় কবি ডেভিড ডেবিডিন। ‘সাদা মানুষের অস্থির...

নৃবিজ্ঞানের ইতিহাস ও উপশাখাসমূহ

নৃবিজ্ঞান মানব সমাজ ও সংস্কৃতির উৎপত্তি এবং বিকাশ সম্পর্কিত অধ্যয়ন। মূলত, সংস্কৃতি দ্বারা মানুষের...

লেভিস্ত্রসের চিন্তা ও পুরাণের কাঠামোগঠন

ক্লদ লেভিস্ত্রস নৃবিজ্ঞান মহলে এক অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব। নৃবিজ্ঞানে ভাষাতত্ত্ব ও কাঠামোবাদ তত্ত্বের সাথে তার নাম জড়িয়ে আছে।...

প্রথম বছর পূর্তি এবং কিছু নির্বাচিত লেখা

১৩ নভেম্বর ২০২০ সাল,এনথ্রোসার্কেল পূর্ণ করেছে তার পথচলার এক বছর। এক বছর আপনাদের যতটুকু ভালোবাসা আমরা পেয়েছি তা সত্যিই আশার অতীত...