তালাল আসাদের ‘বাকস্বাধীনতা, ব্লাসফেমি আর সেক্যুলার ক্রিটিসিজম’ (দ্বিতীয় কিস্তি)

[তালাল আসাদের ‘বাকস্বাধীনতা, ব্লাসফেমি আর সেক্যুলার ক্রিটিসিজম’ লেখাটি নেওয়া হয়েছে ২০০৯ সালে প্রকাশিত ‘Is Critic Secular? Blasphemy, Injury, and Free Speech’ বইটি থেকে। এই লেখাটিতে তালাল আসাদ ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, ক্রিটিক আর প্রাশ্চাত্যের উদারনৈতিক গণতন্ত্রকে নতুনভাবে দেখতে চেয়েছেন। লেখাটি এনথ্রোসার্কেলের জন্য অনুবাদ করেছেন সাদিয়া শান্তা। এই অনুবাদটি কয়েকটি কিস্তিতে এনথ্রোসার্কেলে প্রকাশিত হবে। আজকে প্রকাশিত হল দ্বিতীয় কিস্তি]

উদারতাবাদ আর বাকস্বাধীনতার ধরণ

বলা হয়ে থাকে ব্লাসফেমির বিরূদ্ধে অভিযোগ একটা প্রাচীন ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা, এবং অধুনা স্বাধীনতার মূলভাব হচ্ছে বাকস্বাধীনতা। পশ্চিমা সভ্যতা যদি ঐতিহাসিক ভিত্তিতে খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বী হয়ে থাকে, তবে পশ্চিমা সভ্যতা এখন যে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে সেখানে কি ব্লাসফেমির ধারণার কোন জায়গা আছে? ব্লাসফেমির ধারণা ও ধর্মনিরপেক্ষ আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত নিষেধাজ্ঞার মধ্যে কি কোন সাদৃশ্য আছে? কথা বলা সম্পর্কিত সুরক্ষা ও নিষেধাজ্ঞা কি পশ্চিমা দ্বারা সংজ্ঞায়িত ‘মানব’-এর ধারণা সম্পর্কে আমাদের কিছু বলে? এবং ‘মানব’-এর  ধারণা কিভাবে ‘ধর্মীয়’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ ধারণা দুটির মধ্যে পার্থক্য তৈরী করে?

ব্লাসফেমি যদি সীমানা লঙ্ঘন নির্দেশ করে, ধর্মনিরপেক্ষ সমালোচনা তবে স্বাধীনতা নির্দেশ করে। আধুনিক সমাজে যোগাযোগের ক্ষেত্রে নিশ্চিত কিছু আইনগত বাধ্যবাধকতা আছে। যেমন- কপিরাইট, পেটেন্ট, ট্রেডমার্ক ও বাণিজ্যিক গোপনীয়তা রক্ষার খাতিরে বিভিন্ন আইন রয়েছে যেগুলো বিভিন্ন উপায়ে ব্যক্তির ধারণার অবাধ প্রচলন নিষিদ্ধ করে। মূল কর্ণধার ব্যতীত অন্য কারো দ্বারা যদি প্রকাশ্যে কোন শিল্পকর্ম বিকৃত আকারে উপস্থাপন করা হয় তবে কি সেই শিল্পকর্মের স্বত্তাধিকার লঙ্ঘিত হয়? এবং যদি লঙ্ঘিত হয়, তবে এই নিয়ম লঙ্ঘনের ধারণা ও ব্লাসফেমির ধারণা কিভাবে আলাদা হয়? আমি বলছি না যে কোন পার্থক্য নেই। তবে তা প্রকাশের ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট আইনি শর্ত রয়েছে যা নির্ণয় করে দেয় একটি উদার গণতান্ত্রিক সমাজে নির্দ্বিধায় কিভাবে কতটুকু বলা যেতে পারে। যার ফলে, জনসাধারণের কথার প্রবাহ একটি নির্দিষ্ট আকার ধারণ করে যার দ্বারা ‘বাক স্বাধীনতা’র ধারণা নির্ধারিত হয়।

জনসম্মুখে কোন ধারণার অবাধ প্রচারে নিষেধাজ্ঞা মূলক আইন রয়েছ। প্রথম দিকে মনে হয় মালিকানার সাথে প্রচারের কোন সম্পর্ক নেই। উদাহরণস্বরূপঃ অশ্লীলতা সম্পর্কিত আইন ও শিশু পর্নোগ্রাফি সম্পর্কিত আইনের কথা বলা যায়, এসব কাজ সাইবার স্পেসেও নিষিদ্ধ। প্রথমে উল্লেখিত আইনগুলো (কপিরাইট ও অন্যান্য) সম্পর্কে আপনি বলতে পারেন যে এগুলো বাজার অর্থনীতি ও মালিকানার সাথে সম্পর্কিত, যেখানে পরের উল্লেখিত আইনগুলো (পর্নোগ্রাফি) সম্পূর্ণ ভিন্ন, কেননা সেগুলো নৈতিকতার ধারণার সাথে সম্পর্কিত। যদিও দ্বিতীয় ঘরানার আইন ভঙ্গ মানুষের আবেগকে উস্কে দেয়, তবু উভয় বিধিনিষেধই (Constraints) মানুষের উদার ধর্মনিরপেক্ষ ধারণার একটি ক্লু হিসেবে বিবেচিত, যা মানুষের যথাযথ স্বাধীনতা ও অধিকারের বিষয়। উভয় ধরনের আইনের বিধিনিষেধগুলো বিভিন্ন উপায় বাতলে দেয় যার মাধ্যমে মালিকানা নিশ্চিতকরণ ও সুরক্ষার দ্বারা ব্যক্তি মালিককে সংজ্ঞায়িত করা হয়। ধর্ম নিরপেক্ষ সমাজে এই আইনগুলো ব্যক্তির দেহের মালিকানাসহ অন্যান্য মালিকানা শর্তে ব্যক্তির সম্পত্তির সুরক্ষা ও সীমানা নির্ধারণ সম্ভবপর করে তোলে। এভাবে অন্যের দেহে আমাদের ‘অনধিকারপ্রবেশ’ করা ও অন্যকে ‘শোষণ’ করার ধারণা যৌনতা বিষয়ক আইনের মূল উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। এটা দাসপ্রথাকেও যুক্ত করে, যা কিনা সম্পত্তির এক অনুদার রূপ। কারণ আধুনিক আইন অনুসারে একজন ব্যক্তি অন্য একজন জীবিত ব্যক্তির দেহের মালিকানা কারো কাছে হস্তান্তর করতে পারে না, কিংবা অন্যের মালিকানা অর্জন করতে পারে না। এভাবে স্বাধীনতা বিবেচিত হয় সম্পত্তির অবিচ্ছেদ্য রূপ হিসেবে এবং এমন এক ক্ষমতা হিসেবে যা প্র‍তিটি ব্যক্তি জীবিত দেহের মধ্যে প্রাকৃতিক ভাবে ধারণ করে। ব্যক্তির দেহের এই পরম মালিকানা রীতির অবশ্যই কিছু ব্যক্তিক্রম রয়েছে, যার কিছু নতুন ও কিছু পুরনো। যেমন- আত্মহত্যা তথা নিজেকে ধ্বংস করা কেবল নিষিদ্ধই নয়, বরং উদারনৈতিক দেশের অনেক মানুষ একে ভয়াবহ কাজ হিসেবেও বিবেচনা করে; যদিও সেসব দেশের নীতি অনুসারে ব্যক্তির দেহের একচ্ছত্র মালিক ব্যক্তি নিজে! ব্যক্তির স্ব-মালিকানা (self-owning) সম্পর্কিত ধারণার চেয়ে ব্যতিক্রমী এই ধারণা ধর্মনিরপেক্ষবাদীরা ব্যাখ্যা করে ‘মানব জীবনের মর্যাদা’র মানবতাবাদী নীতি অনুসারে। এটা এমন এক নীতি যা যুদ্ধের বিভীষিকার সাথে দ্বান্দ্বিক হিসেবে বিবেচিত হয় না। দুঃখজনকভাবে, মৃত্যু ও হত্যার উপায় হিসেবে যুদ্ধকে উপস্থাপন করা হয় জাতি কিংবা বৈশ্বিক মানব মুক্তির দোহাই দিয়ে। এই পুরনো বিরোধীতাগুলো ছাড়াও ব্যক্তির অঙ্গদান ও চিকিৎসা গবেষণার জন্য ব্যক্তির টিস্যুদানের মালিকানা বিষয়ক নতুন কিছু আইনী ও নৈতিক বিভ্রান্তির জায়গা তৈরী হয়েছে। এই বিভ্রান্তিগুলোর কারণে আধুনিক সমাজে স্বাধীনতার ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত মানুষের স্ব-মালিকানাধীন (self-owning) ধারণাটি যে হুমকির মধ্যে রয়েছে সেই ক্রমবর্ধমান বোধকে বাড়িয়ে তোলে। 

তত্ত্ব অনুসারে মনে হয়, স্ব-মালিকানার ধারণা খাটিয়ে ব্যক্তি প্রকাশ্যে স্বাধীনভাবে তার কর্ম নির্বাচন করতে পারে। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি আরো জটিল। মুখ্যত, এখানে দুটি বিষয়ের অবস্থান রয়েছে- একটি রাজনৈতিক ও অন্যটি অর্থনৈতিক। এই দুটি বিষয়ের স্বাধীনতা  উদার গণতান্ত্রিক সমাজের মূল্যবোধের সাথে সম্পর্কিত। উভয় বিষয়ই ব্যক্তির নিজস্ব কর্ম নির্বাচনের স্বাধীনতা ও তার সীমানা রক্ষার বিষয়টির সাথে সংযুক্ত। সুতরাং, নাগরিক হিসেবে ব্যক্তির অধিকার রয়েছে অবাধভাবে ও প্রকাশ্যে রাজনৈতিক সমালোচনা করার এবং পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার – তবে  সে এই কাজগুলো কঠোর গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে করতে বাধ্য। এখানে একটি বৈপরীত্য রয়েছে। যেমন- প্রার্থী নির্বাচনে ব্যক্তির স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করার জন্য অবশ্যই নির্বাচন প্রক্রিয়া গোপনে হতে হবে, যেখানে সমালোচনামূলক বক্তব্যের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার জন্য অবশ্যই তা জনসম্মুখে চর্চিত হতে হবে। এই পার্থক্যই প্রকৃতপক্ষে ইঙ্গিত দেয় যে প্রথম প্রেক্ষাপটে যখন প্রতিটি নাগরিককে একটি নির্দিষ্ট সামাজিক সম্পর্কে আবদ্ধ রেখে বিবেচনা করা হয়, পরের প্রেক্ষাপটেই তাকে সর্বজনীন অধিকারসহ পৃথক ব্যক্তিসত্তা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অর্থনৈতিক দিক থেকে স্বতন্ত্র হিসেবে ব্যক্তি তার পছন্দমতো কাজ করতে, কেনাকাটা করতে, খরচ করতে এবং আইনগতভাবে তার সম্পত্তি রক্ষার অধিকারে পুরোপুরি স্বাধীন। মার্ক্স অবশ্য সত্যই বলেছিলেন যে আধুনিক উদারপন্থী সমাজে মূলধন বিকাশের পূর্বশর্ত উৎপাদকের স্বাধীনতা। অথবা, আজ আমরা বলতে পারি, অনিয়ন্ত্রিত ভোগ কর্পোরেট শক্তির উৎস। মার্ক্স যে বিষয়টি উল্লেখ করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন তা হলো, এই ক্ষমতা তার পরিবর্তে নাগরিকের স্বাধীনতাও সীমিত করতে পারে। সামাজিক প্রতিবন্ধকতা (ফ্রয়েডের মতে এমনকি মানসিক প্রতিবন্ধকতা) ব্যক্তিগত পছন্দের কেন্দ্রে অবস্থিত। সুতরাং, এটা সম্ভাব্য যে এরকম সমাজে ব্লাসফেমিতে অভিযুক্ত কোন অসহনীয় চরিত্র ধর্মীয় ভাষায় বাধা দেওয়ার মতো কোন প্রতিবন্ধকতার চেষ্টা থেকে উদ্ভূত হয়নি। কেননা ধর্মতত্ত্ব অতীন্দ্রিয় শক্তির উপর নির্ভরশীলতা আহবান করে এবং ধর্মনিরপেক্ষতা মানব স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিয়ে এ জাতীয় শক্তিকে প্রত্যাখ্যান করে। (তবে উল্লেখ্য যে, অতীন্দ্রিয় শক্তি থেকে মুক্তি ধর্মনিরপেক্ষতার আনুষ্ঠানিক দাবি। প্রকৃতপক্ষে, আমাদের ধর্মনিরপেক্ষ দুনিয়ায় ব্যক্তির পৃথক সত্ত্বার জানার ও কাজের ক্ষমতা ছাড়িয়ে প্রতিবন্ধকতা ও নির্ভরশীলতা খুব বড় আকারে উপস্থিত)।

বাকস্বাধীনতা সম্পূর্ণ মুক্ত নয়- এমন কোন মামুলি যুক্তি দাঁড় করানো আমার উদ্দেশ্য নয়। কারণ উদারনৈতিক সমাজে স্বাধীনতা ভারসাম্য বজায় রাখে দায়বদ্ধতার দ্বারা। আমি বরং জানতে চাইব, উদারপন্থীদের মুক্ত মানুষ সম্পর্কিত ধারণার বিষয়ে উদারনৈতিক সীমাবদ্ধতার নির্দিষ্ট কিছু নমুনা আমাদের কি বোঝায়? স্ব-মালিকানাধীন ব্যক্তির ধারণা একটি বিখ্যাত উদারপন্থী ধারণা এবং এই ধারণা না ব্যক্তিগত সম্পত্তির উপর অধিকারের চেয়েও বিস্তৃত; যদিও ব্যক্তি নিজের সাথে কি আচরণ করবে সেই ব্যাপারে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সম্পত্তির মালিকানাধীন বিষয়টি যারা মালিক ও যারা মালিক নয় তাদের সম্পর্ককেই কেবল সুরক্ষিত করে না, বিষয়টি বরং ব্যক্তির নিজস্ব সম্পত্তি দিয়ে যা ইচ্ছা তা করার অধিকারকেও নিশ্চিত করে, যতক্ষণ না তা অন্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ করে। কেউ কারো সম্পত্তি নিয়ে কি করবে সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার উদারনৈতিক ব্যবস্থার নিজস্ব বিষয়, এছাড়াও নিজ শরীর, আচরণ আর নিজের বক্তব্যও এইক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সম্পত্তি আকারেই বিবেচিত হয়, যেহেতু এসব দিয়েই ব্যক্তির সত্ত্বাকেই নির্দেশ করা হয়।  সম্পত্তি হিসেবে ব্যক্তির বক্তব্যকে বিবেচনা করার প্রসঙ্গে আমি আবার ফিরে আসব। কিন্তু তার আগে আমি বাক স্বাধীনতা সম্পর্কিত উদারনৈতিক নয় বরং ইসলামী ঐতিহ্যগত চিন্তার একটি কেন্দ্রীয় ধারণার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে চাই। তা হলো- ‘প্রলোভন’।

উদারনৈতিক সমাজে ধর্ষণ তথা যৌন উপভোগের উদ্দেশে ব্যক্তির ইচ্ছার বিরূদ্ধে তার শরীর দখল করা একটি মারাত্মক অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। কিন্তু প্রলোভন তথা ব্যক্তির বাসনাকে ম্যানিপুলেট করা অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় না। অর্থাৎ প্রথমটি নিপীড়ন হিসেবে বিবেচিত হলেও পরেরটি নয়। কেননা পরের ঘটনাটিতে কোনোরকম সম্পত্তির অধিকার লঙ্ঘিত হয়নি। অপরাধবোধের এই বোঝাপড়াকে প্রাচীন গ্রিসের অপরাধবোধের সাথে তুলনা করা যায়। সেখানে প্রলোভন ছিল ধর্ষণের চেয়েও জঘন্য অপরাধ। কারণ এর সাথে কোন পুরষ কোনো নারীর প্রতি স্নেহ ও আনুগত্যের সম্পর্কে আবদ্ধ থাকলে তাকে সেই সম্পর্ক থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টি জড়িত। এটা যে  প্রাচীন পৃথিবীতে নারীর মতামতকে উপেক্ষা করা হত- কেবলমাত্র এই ব্যাপারটিকেই  ইঙ্গিত করে না, বরং উদারনৈতিক সমাজে প্রলোভনকেও একরকম বিশৃঙখলা অবস্থা হিসেবে ইঙ্গিত করে। উদারনৈতিক সমাজে প্রলোভন কেবল অনুমোদিতই নয়, বরং ব্যক্তি স্বাধীনতার চিহ্ন হিসেবেও একে মূল্যায়ন করা হয়। প্রাপ্তবয়স্ক যে কেউ তার শরীর, অনুভূতি কিংবা স্বীয় বাণী নিজের ইচ্ছামতো প্রকাশ করতে পারে, যতক্ষণ না তার কোন কাজে অন্যের সম্পত্তির কোনরূপ ক্ষতিসাধন হচ্ছে। তাই প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রলোভনের (একে বলা যেতে পারে প্রকাশ্যে যৌন ইশারা বিনিময়) বাঁধার ব্যাপারটি সহজাত স্বাধীনতায় বাঁধা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এবং এই ক্ষেত্রে বাঁধাদান করাকে ব্যক্তির বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

বাকস্বাধীনতার ক্ষেত্রে জবরদস্তি আর যৌক্তিক নির্বাচন- এই দুইয়ের উদারনৈতিক ফারাকটা কতটুক স্পষ্ট?  প্রকৃতপক্ষে, এই দুই বৈপরীত্যের মধ্যে রয়েছে এক বিশাল ক্ষেত্র যেখানে নিত্যদিনের জীবনযাপন অতিবাহিত হয়। এই ক্ষেত্রেই প্রলোভনের খেলা চলে যাতে সম্মতি ও জবরদস্তি উভয়ই অস্পষ্টভাবে উপস্থিত। এবং এই ক্ষেত্রেই স্বাধীনতা সম্পর্কে আমাদের নিত্যদিনের উপলব্ধিগুলো চর্চিত হয়।

এভাবে উদারনৈতিক গণতন্ত্রে লোভ, অহংকার, হিংসা, প্রতিহিংসা ইত্যাদি আবেদনের মাধ্যমে ভোক্তা ও ভোটার হিসেবে ব্যক্তিকে মোহিত করে। অন্যান্য পরিস্থিতিতে নৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে যা চিহ্নিত ও নিন্দিত হতে পারে, এখানে নির্দিষ্ট ধরনের অর্থনীতি ও রাজনীতির কাজে তা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অসংখ্য গবেষণা থেকে দেখা যায়  যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে টেলিভিশন কিভাবে দর্শকদের পছন্দের পণ্য ও প্রার্থীর রূপ তৈরী করে। (চলচ্চিত্র সাধারণত দর্শককে বিমোহিত করার কাজ করে, যদিও তাতে রাজনৈতিক বা বাণিজ্যিক বার্তা ছড়ানোর কোন উদ্দেশ্য নেই।) কাউকে প্রলুব্ধ করার মানে হলো কারো অন্তর্নিহিত আত্মাকে প্রলুব্ধকারী দ্বারা প্রদত্ত শব্দ, ছবি ও ধ্বনি দ্বারা উদ্বুদ্ধ করা ও তাকে প্রলুব্ধকারীর স্থানে অর্থাৎ প্রলোভনের চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া (জটিল প্রক্রিয়ায় এবং অজান্তে)।

আমি আবার কপিরাইটের আলাপে ফিরে যাই যা উদারনৈতিক সমাজে স্পষ্টতই বাকস্বাধীনতার সীমানা নির্দেশ করে। আঠারো শতকে ইংল্যান্ডে কপিরাইটের স্থায়িত্ব নিয়ে আইনী বিতর্কের বিশদ বিবরণে মার্ক রোজ দেখিয়েছেন মালিকানাধীন ধারণার মধ্য দিয়ে লেখকের বিমূর্ত (Incorporeal property) সম্পত্তির (যেমন- সাহিত্যকর্ম) ধারণা কিভাবে উদ্ভূত হয়েছিল। প্রথমত, চিরস্থায়ী কপিরাইট আইনের প্রতি যারা যুক্তি দেখিয়েছিলেন তারা অনুধাবন করেছিলেন যে লেখকের নিজের তৈরী কোন সাহিত্যকর্ম প্রাকৃতিকভাবে তার সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে। চিরস্থায়ী কপিরাইট আইনের বিরোধীপক্ষ যখন জোর দিতে লাগলেন যে এই জাতীয় কোন ধারণা সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হতে পারে না, এবং কপিরাইটকে কেবলমাত্র পেটেন্ট আইনের মতো সীমাবদ্ধ ব্যক্তিগত অধিকার হিসেবেই গণ্য করা উচিত, তখন তারা নিজেদের যুক্তি পালটে ভুলে গিয়েছিল যে এখানে ভৌত গঠনের বইটিকে সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে না, বরং লেখকের শৈলী সংবেদন থেকে তৈরী নিজস্ব ধারণাটিকে সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। মার্ক রোজ লিখেছেন, “এখানে দুটি ধারণার উদ্ভব একযোগে লক্ষ্য করা যায়; লেখকের মালিকানাধীন ধারণার আইনগত দিক আর তার সাহিত্যকর্ম। এই দুটি ধারণা একে অপরের সাথে আবদ্ধ।” 

একটা বিষয় স্পষ্ট হওয়া উচিত যে কপিরাইট আইনটি কেবল অবাধ প্রচারে প্রতিবন্ধকতা হিসেবেই কাজ করে না, উপরন্তু কখন, কোথায়, কাদের জন্য সাহিত্যকর্ম উন্মুক্ত, সৃজনশীল ও দরকারি হিসেবে বিবেচনা করা হবে তা চিহ্নিত করার এক উপযুক্ত মাধ্যম হিসেবেও কাজ করে। একজন ব্যক্তি কী চায়, কীভাবে চায় তা বলতে পারার স্বাধীনতা সম্পত্তির ধারণার একটা নির্দিষ্ট অংশের উপর নির্ভর করে। এটা সম্পত্তির কর্ণধার হিসেবে এমন একধরণের ব্যক্তির ধারণা প্রকাশ করে,যার বাকস্বাধীনতা নির্ভর করে যা বলা হয়েছে তার সত্যতার উপর, যা সৃষ্টি করা হয়েছে এবং একে জনগণের সামনে পেশ করা হয়েছে, কিন্তু এর সত্ত্বাটাকে কখনোই বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয় নাই।   

সাংস্কৃতিক ঐতিহাসিকরা যেহেতু ইতোমধ্যে জাতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের রোমান্টিক শব্দভান্ডারের উপর দীর্ঘ লেখা লিখেছেন, সুতরাং সাহিত্যের ঐতিহাসিকরা স্বাধীনতা ও সীমাবদ্ধতার পারস্পরিক রূপের মধ্য দিয়ে ‘সাহিত্যকর্ম’ ধারণাটির রোমান্টিক শিকড়গুলোর সন্ধান শুরু করেছেন।17 ‘বাকস্বাধীনতা’ সম্পর্কিত সাধারণ ধারণার শিকড়গুলো কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত তা তদন্ত করা এখনো বাকি। এই ধারণার উৎপত্তি ও বিকাশ সংক্রান্ত চিত্র অঙ্কন করা এখনো বাকি, যার সাহায্যে একে আমরা ধর্মনিরপেক্ষ ধারণা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয় যোগান হিসেবে বিবেচনা না করে বরং মানুষের নৈতিকতা গঠনের উদ্দেশ্যে একটি রোমান্টিক প্রকল্পের ফলাফল হিসেবে বিবেচনা করতে পারি।

ব্লাসফেমি বলতে পশ্চিম কী বুঝে?

সত্য নির্ধারণে ক্ষমতাবাহী নির্দেশকগুলো তথা ছবি/ভাবমূর্তি ও বাণীর উপর লাঞ্চনার মাধ্যমে ধর্ম ও ধর্ম নিরপেক্ষতার পার্থক্যকে ছাড়িয়ে যাওয়ার এক দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে । প্রতিমা ভাঙন কিংবা ব্লাসফেমির মতো ধর্মনিরপেক্ষ সমালোচনাও নতুন সত্য প্রতিষ্ঠার জায়গা খোঁজে এবং প্রয়োজনে পূর্বে প্রতিষ্ঠিত সত্যকে হটিয়ে জায়গা করে নেয়।

ফরাসী ঐতিহাসিক এ্যালাইন ক্যাবান্টাস একবার বলেছিলেন যে, যিশু যখন স্বীয় প্রকৃত সত্তাকে ঐশীসত্তা হিসেবে দাবী করেন, তখন তাঁর সেই দাবীকেও এক ধরনের ব্লাসফেমি হিসেবে ধরা হয়। সেই ব্লাসফেমিই যিশুকে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করে এবং মৃত্যুর পর তাঁর পুনরুত্থান ঘটে। ক্যাবান্টাস লিখেছেন, “এই প্রেক্ষিতে বলা যায়, ব্লাসফেমির মাধ্যমে গড়ে উঠে খ্রিস্টান ধর্ম।”18 আমরা এখানে একটা বিষয় যুক্ত করতে পারি যে, প্রতিটা নতুন ঐতিহ্য, সেটা ধর্মীয় হোক কিংবা না হোক, কোন না কোন বিঘ্নিত ঘটনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়- অর্থাৎ কোন না কোন প্রকার সহিংসতার মাধ্যমে। একথা ক্যাবান্টাস না বললেও অন্যরা তাই করেছে। কেউ কেউ এমন যুক্তিও তৈরী করেছে যে, বড় সহিংসতা কাটিয়ে উঠতে ব্লাসফেমির ব্যত্যয়কে ছোট সহিংসতা হিসবে দেখা যেতে পারে।19 এটা কখনো কখনো ঘটতে পারে। তবে আমি দাবি করব না যে প্রতিটা ব্লাসফেমাস বক্তব্যই কোন না কোন মতাদর্শের প্রতিষ্ঠাতা। সহিংস কর্মকান্ড হিসেবে (হতে পারে তা দুর্বল কিংবা কট্টর) ব্লাসফেমি সাধারণত একটা ঘোরের (obsession) তুলনায় খানিক বেশি হতে পারে, যেখানে সহিংসতা একটি প্রতিষ্ঠিত ঘরানার পুনরায় প্রতিষ্ঠাকরণ ও পুনরুদ্ধার হিসেবে কাজ করে, যে ঘরানার আদৌ কোন ভিত্তি কিংবা বিষয়বস্তু নেই। অন্য কথায়, ব্লাসফেমি কেবল সৃজনশীল ফাটল হিসেবে সহিংসতার ভিন্ন বেশভূষা হতে পারে।

ক্যাবানটাস হয়তো খেয়াল করতে পারতেন যে খ্রিস্টান ধর্মের ভিত্তিতে বিশ্বাসীরা ব্লাসফেমিকে এভাবে অনুধাবন করেনি। খ্রিস্টীয় দৃষ্টিকোণ থেকে, ব্লাসফেমির অভিযোগ ছিল নিছক অবিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ। যদিও সেই অবিশ্বাস যিশুখ্রিষ্টকে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করে, তবে ঐতিহাসকিভাবে খ্রিস্টানদের মতে সেই মৃত্যুও ছিল কোন ঐশী পরিকল্পনার অংশ। যিশুখ্রিষ্ট কি জানতেন তিনি যা যা বলেছেন তাঁর অবিশ্বাসী শ্রোতারা সেসব বাণী ব্লাসফেমি হিসেবে গ্রহণ করবে, কারণ মানবমুক্তির প্রকল্পে তাঁর ক্রুশবিদ্ধকরণ প্রয়োজনীয় ছিল? সর্বোপরি, তিনি ছিলেন একইসাথে মানুষ এবং ঈশ্বর। কঠোরভাবে বলতে গেলে, খ্রিস্টান ধর্মের ভিত্তি অবশ্যই ব্লাসফেমি নয়; এর ভিত্তি বরং এক নতুন ধরনের ত্যাগ ও মুক্তি, এক শহীদের মৃত্যু যন্ত্রণার গল্প- যে গল্প বিশ্বাসীদের দেখায় এক অনন্ত জীবনের দরজা। যিশু তাঁর অনুসারীদের বলেছিলেন যে সত্য তাদের মুক্তি দিবে। শৃঙখলাবদ্ধ মানবিক অবস্থা মানেই স্বাধীনতার অভাব; বাকস্বাধীনতা, সত্যনিষ্ঠ বক্তৃতা মানুষকে তার অধীনতা থেকে মুক্তি দেয়। এমনকি যারা এর অধিকারী নয় তারা যদি মুক্তকণ্ঠে বলার স্বাধীনতাকে ব্লাসফেমি হিসেবে বিবেচনা করে, তবুও অকপটে সত্য বলা উচিত। 

এই প্রসঙ্গে “নিউ টেস্টামেন্ট”-এর এক পন্ডিত বলেছেন, “যারা অবিশ্বাসী ও যারা ধর্মপ্রচারকদের সমালোচক, তাদের বিরোধীতা সত্ত্বেও খ্রিস্টানরা নির্দ্বিধায় কথা বলতে পারে; কেননা তিনি জানেন ‘তিনি’ সমস্ত বিরোধীতাকে জয় করেছেন, তিনি জানেন ঈশ্বরের সাথে মিলিত হওয়ার বিস্ময় বিশ্বের সবকিছুকে ছাড়িয়ে যায়।” বাকস্বাধীনতার উদার নীতিতে অবশ্যই এমন কোন শর্ত আরোপ করা নেই যে বাকস্বাধীনতার অধীনে বলা যেকোন কথাই আক্ষরিক অর্থে সত্য হতে হবে। তবে সেই উদারনীতিকে কেন ‘পবিত্র’ গণ্য করা হয় তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আমি মনে করি, স্বাধীনভাবে বলা ও শোনার ক্ষেত্রে খ্রিস্টানধর্মের “সত্যের” ধারণাটি অনেকখানি সাহায্য করে।

ব্লাসফেমি এমন এক গর্হিত কাজ যা পার্থিব শাস্তি দ্বারা দায়বদ্ধ। খ্রিষ্টধর্মে এর দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। সতেরো শতকে ইংল্যান্ডে এটা কেবল প্রচলিত আইনে অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়েছিল। জাতীয় আদালতগুলো তখন ধর্মীয় আদালতের উপরে স্থান লাভ করেছিল এবং আধুনিক রাষ্ট্রের রূপ নিচ্ছিল। মধ্যযুগীয় ক্যানন আইন অনুসারে প্রচলিত আইন বিধর্মী মতবাদ (গীর্জার মতবাদের বিরোধী অবস্থান) ও ব্লাসফেমির (ঈশ্বর এবং তাঁর প্রচারক সম্বন্ধে অপমানসূচক কথা) মধ্যে কোন পার্থক্য করেনি। সুতরাং, সতেরো শতক থেকে ব্লাসফেমির মতো গর্হিত কাজ রাজনৈতিক সহিষ্ণুতা ও ধর্মনিরপেক্ষ আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের প্রশ্নে জড়িয়ে পড়ে। পরবর্তী দুই শতাব্দী ধরে, এসকল মানহানিকর অভিপ্রায় বা মধ্যপন্থী ভাষায় প্রকাশিত বিবৃতগুলো ফৌজদারী মামলায় দায়বদ্ধ কিনা এই ব্যাপারে আইনী মতামতে পার্থক্য দেখা দেয়। পন্ডিতসুলভ আলাপগুলো ধর্মবিরোধী হলেও সেগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া প্রয়োজন, এই ধরণের আলাপ উঠতে থাকে। এরফলে, আইনি বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে ব্লাসফেমির সাথে সম্পর্কিত ভাষার (রীতি কিংবা পটভূমি) প্রতিও গুরত্ব দেওয়া শুরু হতে থাকে। 

কনটেন্ট হিসেবে না দেখে ব্লাসফেমিকে ফর্ম হিসেবে দেখার ক্ষেত্রে মত প্রকাশের পদ্ধতির উপর জোর দেওয়ার যে প্রবণতা, তার কিছু মজার আইনী তাৎপর্য ছিল। মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তদের মার্জিত আলাপের চেয়ে শ্রমিক-শ্রেণীর কুরুচিপূর্ণ আলাপ ছিল কম সুরক্ষিত। উনিশ শতকে ইংল্যান্ডে যে সকল পন্ডিতগণ ব্লাসফেমির শাস্তি নিয়ে অধ্যয়ন করেন, শ্রেণী পক্ষপাতিত্বের কারণে সেসব ব্যাপারকে তাঁরা “Class crimes of language” বলে অভিহিত করেন। এ কারণে আমি বলতে আগ্রহী যে, ব্লাসফেমির শনাক্তকরণ কেবল শ্রেণী পক্ষপাতিত্বের প্রতিই ইঙ্গিত করে না, বরং এটি শ্রেণী পার্থক্য গঠন করতেও সহায়ক ছিল যাতে বারবার অসম্পূর্ণ শক্তি অন্তর্লিখিত হয়েছিল। অতএব আমার পরামর্শ হবে এই যে, এই ক্ষেত্রে আমরা ব্লাসফেমিকে বাকস্বাধীনতা দমনের ডিসকার্সিভ ডিভাইস  হিসেবে না দেখে বরং বিভিন্ন সময় ও বিভিন্ন জায়গায় বাকস্বাধীনতার বিভিন্ন আকারের নির্দেশক হিসেবে দেখি।

১৭. দ্রষ্টব্য মারথা উডমানসের, “জিনিয়াস ও কপিরাইট: ‘লেখক’ উত্থানের অর্থনৈতিক ও আইনী শর্তাদি,” ‘আঠারো শতকের গবেষণা’ (eighteenth century studies) ১৭, নং-৪ (১৯৮৪)।

১৮. অ্যালেইন ক্যাবান্টাস, ‘ব্লাসফেমি: ইম্পায়াস স্পীচ ইন দ্য ওয়েস্ট ফ্রম দ্য সেভেনটিন্থ টু দ্য নাইনটিন্থ সেঞ্চুরি’, নিউ ইয়র্ক, ২০০২, পৃষ্ঠা-৫।

১৯. হেন্ট দি ভ্রাইস, তার  ‘রিলিজিওন এন্ড ভায়োলেন্স’ (বালতিমোর, ২০০২) বইটিতে দেরিদার পাশাপাশি বেঞ্জামিনকেও টেনে এনে যুক্তিটিকে যথাযথ করে তোলেন।

প্রথম কিস্তি পড়তে এখানে ক্লিক করুন।

Related Articles

ফরেনসিক নৃবিজ্ঞানঃ সংক্ষিপ্ত পরিচয়

বিংশ শতাব্দীতে নৃবিজ্ঞানের যেসকল নব নব ক্ষেত্র বা উপশাখা পরিস্ফুটিত হয়েছে, তন্মধ্যে ফরেনসিক এন্থ্রোপোলজি বা ফরেনসিক নৃবিজ্ঞান অন্যতম।...

সামাজিক বাস্তবতা নির্মাণে প্রতীকী নৃতত্ত্বের ভূমিকা

আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি যে এই প্রকৃতির সকল ঘটনাকে সকল মানুষ একইভাবে ধারণ করে কিনা? একজন সাহিত্যিক...

মাতৃসূত্রীয় পরিবারে নারীর স্বাস্থ্য সুবিধা ও নারীপ্রধান খানা গঠনের স্বাধীনতা

মাতৃসূত্রীয় খানাব্যবস্থা বনাম পিতৃসূত্রীয় খানাব্যবস্থায় স্বাস্থ্য সুবিধার দিকটিতে আলোকপাত করার আগে প্রথমেই আমাদের জ্ঞাতিত্ব, বংশধারা, মাতৃসূত্রীতা, পিতৃসূত্রীতা, খানাব্যবস্থা ইত্যাদি বিষয়ের সংজ্ঞায়ন করা...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

Latest Articles

ফরেনসিক নৃবিজ্ঞানঃ সংক্ষিপ্ত পরিচয়

বিংশ শতাব্দীতে নৃবিজ্ঞানের যেসকল নব নব ক্ষেত্র বা উপশাখা পরিস্ফুটিত হয়েছে, তন্মধ্যে ফরেনসিক এন্থ্রোপোলজি বা ফরেনসিক নৃবিজ্ঞান অন্যতম।...

সামাজিক বাস্তবতা নির্মাণে প্রতীকী নৃতত্ত্বের ভূমিকা

আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি যে এই প্রকৃতির সকল ঘটনাকে সকল মানুষ একইভাবে ধারণ করে কিনা? একজন সাহিত্যিক...

মাতৃসূত্রীয় পরিবারে নারীর স্বাস্থ্য সুবিধা ও নারীপ্রধান খানা গঠনের স্বাধীনতা

মাতৃসূত্রীয় খানাব্যবস্থা বনাম পিতৃসূত্রীয় খানাব্যবস্থায় স্বাস্থ্য সুবিধার দিকটিতে আলোকপাত করার আগে প্রথমেই আমাদের জ্ঞাতিত্ব, বংশধারা, মাতৃসূত্রীতা, পিতৃসূত্রীতা, খানাব্যবস্থা ইত্যাদি বিষয়ের সংজ্ঞায়ন করা...

অন্তর্যাত্রাঃ একটি নৃতাত্ত্বিক ভাবনা

কাহিনী সংক্ষেপ "ক্লাসের বন্ধুরা বাংলাদেশ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে আমি সবসময় বিব্রতবোধ করেছি। বাংলাদেশ আমার কাছে...

সঙ্গীত কি আমাদের দারিদ্র্য ও অসমতার বোঝাপড়ায় প্রভাব রাখতে পারে?

সঙ্গীত এবং উন্নয়ন অধ্যয়নের মধ্যে কী মিল রয়েছে? এই প্রশ্নে ডেভিড লুইস বলছেন, "আপনি যা ভাবছেন তার চেয়ে...